পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তারা তৃপ্ত। তারা কখনো মুক্তির জন্তে, জীবনের সীমাবন্ধন থেকে ছাড়া পাবার জন্তে ক্ৰন্দন করে না । তারা কখনো শ্বাসরুদ্ধ বোধ করে না ও তাদের জগতের চারপাশের সীমাপ্রাচীরকে ভেঙে ফেলতে তাদের সর্বশক্তি দিয়ে আঘাত করে না । তারা কখনো জানে না প্রাচুর্যের জীবন ত্যাগ করার অর্থ কী, এবং কৃচ্ছ্বসাধনার দ্বারা পুণ্যবানের রাজ্যে প্রবেশাধিকার তারা কখনো চায় না। তারা তাদের আকাজক্ষার জন্য লজ্জিত নয় ; তারা ক্ষুধায় নির্ভেজাল । কারণ এই-সব নিয়েই তাদের জীবন সম্পূর্ণ। তারা তাদের নিষ্ঠুরতার মধ্যে নিষ্ঠুর নয়, লোভে তারা লোভী নয় ; কারণ তা তাদের বিষয়েই শেষ হয়ে যায়, আব এই বিষয় আপনাতেই সম্পূর্ণ। কিন্তু মানুষের আর এক জীবন আছে । আর সেখানে মানুষ এই-সব প্রবৃত্তিকে ঘৃণা করে । কারণ সেগুলি তার অনন্তকে স্বীকার করে না । মানুষের মধ্যে পশুর জীবন আরো বাক নিয়েছে। মানুষ এই নতুন জগতের সূচনায় এসে দাড়িয়েছে। তার ইচ্ছা ও ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে এই জগৎ বচনা করতে হবে । যে প্রাথমিক স্তরে স্বার্থ-সত্তা তার চার দিকের সব বস্তুকে নিজের কেন্দ্রাভিমুখে আকর্ষণ করার চেষ্টা করে এবং কিছুই ফিরে দেয় না, সে স্তর আজ পার হয়েছে। মানুষ এখন তার স্বজনশীল জীবনের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। তার প্রাচুর্য থেকে তাকে এখন দান করতে হবে। তার নিরন্তর ত্যাগের মধ্য দিয়ে মানুষকে গড়ে উঠতে হবে। যা-কিছু এই অন্তহীন বিকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করে, তাই পাপ । পাপ মানুষের অনন্তের বিরুদ্ধে ক্রিয়াশীল অসৎ বস্তু। মানুষের জীবন-অধ্যায়ের সূচনা থেকে এই স্বজনশীল উদ্যম আত্মপ্রকাশ করছে। এমন-কি তার শারীরিক প্রয়োজনসমূহও প্রকৃতির ক্ষেত্র כ\ף