পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


থেকে তৈরি অবস্থায় সরবরাহ করা হয় নি। আদিম যুগ থেকে মানুষ তার চার পাশের কাচা উপাদান থেকে নিজস্ব সম্পদের জগৎ রচনায় ব্যস্ত থেকেছে । এমন-কি তার আহার্যদ্রব্যও তার নিজের তৈরি ; পশুর পথ ছেড়ে তাকে উলঙ্গ হয়ে জন্মাতে হয়েছে ও নিজের পরিধেয় তৈরি করে নিতে হয়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, মানুষ প্রকৃতিব উদ্দেশ্যের জগৎ থেকে স্বাধীনতার জগতে জন্ম নিয়েছে। স্বষ্টিই মুক্তি। যা আছে তার মধ্যে জীবনধারণের অর্থ বন্দীশালায় বাস। কারণ তা হল যা আমাদের নয়, তারি মধ্যে জীবনধারণ । সেখানে আমরা অসহায়ভাবে প্রকৃতিকে আমাদের ও আমাদের জন্য সব-কিছু নির্বাচন করতে দিই। তার ফলে আমরা প্রাকৃতিক নির্বাচন-আইনের অধীন হয়ে পড়ি । কিন্তু আমাদের নিজস্ব সৃষ্টিক্ষেত্রে যা আমাদের নিজস্ব, তাতেই জীবনধারণ কবি এবং সেখানে জগৎ ক্রমশই বেশি পরিমাণে আমাদের নিজস্ব নির্বাচনের জগৎ হয়ে ওঠে । এই জগৎ আমাদের চলাফেরার সঙ্গে চলে এবং আমরা যে দিকে যাই সেদিকে পথ ছেড়ে দেয় । এইভাবে আমরা দেখি মানুষ যে জগৎ পেয়েছে, তা নিয়ে সে তৃপ্ত নয়। সে এই জগৎকে আপনার জগৎরূপে গড়ে তুলতে উদ্যত হয়েছে। আর বিশ্বের যান্ত্রিক কাঠামোকে মানুষ টুকরো টুকরো করে দেখছে, তাকে পরীক্ষা করছে, এবং তাকে আপন প্রয়োজন অনুসারে পুনর্বিন্যস্ত কবছে । বস্তুজগতেব পাকৃতিক ব্যবস্থার বিধিনিষেধের মধ্যে মানুষ চঞ্চল হয়ে উঠেছে। এই-সব নিষেধ তাব স্বাধীনতাকে প্রতি পদে ব্যাহত করছে ও তাকে পদার্থের শাসন সহ্য করতে হচ্ছে। অথচ মানুষের প্রকৃতি এই শাসনকে চূড়ান্ত ও অপরিহার্য বলে মেনে নিতে রাজি নয় । এমন-কি তার অসভ্য যুগে মানুষ যাদুবিদ্যার জোরে বস্তুকে ዓ8