পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বদলে দিয়েছে। পশু কখনো যা করে নি, মানুষ তা করেছে ; সে আলাদিনের চেরাগের স্বপ্ন দেখেছে। তার পছন্দমত পৃথিবীকে উলটপালট করার জন্য অজ্ঞাবাহী দৈত্যশক্তির স্বপ্ন মানুষ দেখেছে। কারণ মানুষের মুক্ত আত্মা চলাফেরায় তার সম্পর্কে বিবেচনাহীন বস্তুবিন্যাসের কাছে হেঁচট খেয়েছে । তার সম্মতিহীন প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে মানুষের মেনে চলতেই হবে, অথবা মরতে হবে— এইভাবে মানুষ ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে । তার বিরুদ্ধে বহু স্থল তথ্য থাকা সত্ত্বেও মানুষ অন্তরের অন্তরে কখনো তাকে বিশ্বাস করতে পারে নি। সেইজন্য মানুষ স্বর্গের স্বপ্ন দেখেছে ; সেখানে সে মুক্ত। যখন দেবতাদের সঙ্গে তার নিরন্তর সহযোগিতা ছিল, তখন মানুষ স্বপ্ন দেখেছে পরীর দেশের, মহাকাব্যের যুগে । দার্শনিকের পাষাণের ও জীবন-রসের স্বপ্ন মানুষ দেখেছে। যদিও কোথাও তার সামনে মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত হয় নি, তথাপি মানুষ তা হাতড়েছে । মানুষ নিজেকে ক্ষয় করেছে অকাজক্ষা কবেছে ও তার সমস্ত শক্তি দিয়ে মুক্তিস্বর্গে প্রবেশাধিকার প্রার্থনা করেছে। কারণ প্রবৃত্তিবশে মানুষ অনুভব করেছে এই জগৎ তার চূড়ান্ত জগৎ নয় ; এবং যদি সে আর-এক জগৎ না পায় তবে তার আত্মা তার কাছে অর্থহীন যন্ত্রণ। মাত্র । প্রকৃতির শাসনের বিরুদ্ধে, মানুষের মক্তি-বিদ্রোহ বিজ্ঞানের নির্দেশে চালিত হয় । বিজ্ঞান মানুষের হাতে প্রকৃতির ক্ষমতার জাদুদণ্ডটি অর্পণ করার জন্য কাজ করে চলেছে। বস্তুর দাসত্ব থেকে আমাদের আত্মাকে মুক্তি দেবে বিজ্ঞান। বিজ্ঞানের জড়বাদী রূপ আছে। কারণ ধ্বংসস্তুপের মাঝে দাড়িয়ে জড়পদার্থের বন্দীশালা ভাঙার কাজে সে ব্যস্ত। কোনো নতুন দেশের উপর আক্রমণ ঘটলে লুঠতরাজ তখনকার মতো রেওয়াজ হয়ে যায়। ዓ ©