পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু যখন সে দেশ বিজিত হয়, তখন ব্যাপার ভিন্নতর হয়ে যায়, এবং যারা লুঠ করেছিল তারাই পুলিসবাহিনীরূপে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করে । বিজ্ঞান জড়পদার্থের জগৎ আক্রমণের সূচনায় রয়েছে এবং সেখানে সে লুঠতরাজের হিংস্র কাড়াকড়ি করতে যাচ্ছে। প্রায়ই নানা বস্তুর বিকট জড়রূপটি দেখা যায় এবং তা নির্লজ্জভাবে মানুষের আপন প্রকৃতিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। কিন্তু এমন দিন আসবে যেদিন প্রকৃতির কোনো বড়ো শক্তি প্রতিটি ব্যক্তির আজ্ঞাধীন হবে ও অন্ততঃপক্ষে জীবনধারণের মূল প্রয়োজনগুলি সকলের কাছে অতি সামান্য কষ্ট ও খরচে পৌছবে । বেঁচে থাকা মানুষের কাছে শ্বাসগ্রহণের মতোই সহজ হবে এবং তার আত্মা ইচ্ছামত নিজস্ব জগৎ সৃষ্টি করবে। আদিকালে যখন বিজ্ঞান প্রকৃতির শক্তিভাণ্ডারের চাবিটি খুজে পায় নি, তখনো জড়পদার্থের শাসনকে অগ্রাহ করার মতো বৈরাগ্যের সাহস মানুষের ছিল । মানুষ বলেছিল যে সে খাদ্য ছাড়াই বাঁচতে পারে এবং চরম শীতাতপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য পরিধেয় তার পক্ষে একান্ত আবশ্যকীয় নয়। শারীরিক নিগ্রহে মানুষ গর্ব অনুভব করত। প্রকৃতি তার কাছে যে খাজনা দাবি করেছে, তার অতি সামান্তই সে দিয়েছে— এ কথা প্রকাশ্যে ঘোষণায় তার আনন্দ ছিল । যে যন্ত্রণ ও মৃত্যুভয়ের সাহায্যে প্রকৃতি মানুষের গোলামী দাবি করেছে, মানুষ প্রমাণ করেছে যে সেই ভয়কে সে সম্পূর্ণ ঘৃণা করে। এই গর্ব কেন ? শারীরিক প্রয়োজনের কাছে মাথা নিচু করার হীনতার বিরুদ্ধে কেন মানুষ সর্বদাই বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে, প্রকৃতির বিধিনিষেধকে চূড়ান্ত বলে মেনে নেবার ব্যাপারটার সঙ্গে কেন মানুষ নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারে নি ? ৭৬