পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শারীরিক ও নৈতিক জগতে মানুষ কেন কল্পনারোধী অসম্ভবের প্রয়াস করেছে এবং বারবার হতাশা সত্ত্বেও কেন সে কখনো পরাজয়কে মেনে নেয় নি ? প্রকৃতির দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দেখলে বলতে হয় মানুষ নিবোধ । যে জগতে সে বাস করে মানুষ তাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করে না । তার ইতিহাসের সূচনা থেকেই মানুষ এই জগতের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। সব দিক থেকে সে নিজেকে আঘাত করতে পছন্দ করে বলে মনে হয়। প্রাকৃতিক নির্বাচনের সতর্ক কত্রী কিভাবে তার কাজের মধ্যে গলতি রেখে গেছেন যার মধ্য দিয়ে অনাবশ্যক ও বিপজ্জনক উপাদান তার সংসারে ঢুকে পড়েছে এবং যে জগৎ মানুষকে ধারণ করছে তাকেই ভেঙে ফেলতে তারা মানুষকে প্ররোচনা দিচ্ছে— সে কথা কল্পনা করা কঠিন। মুরগীশাবক যখন তার ছোটো জগতের দেয়ালের মধ্য দিয়ে উকি দেয় তখন সে একই ধবণের যুক্তিহীন নির্বোধ কাজ করে। এক অপ্রতিরোধ্য রোকের বশে শাবকটি ভাবে যে তার খোলার তৈরি প্রিয় বন্দীশালার বাইরে কোনো-কিছু তার জন্য অপেক্ষা করছে। এই অপেক্ষমাণ বস্তু তার অস্তিত্বকে যে পূর্ণতা দেবে, তা সে কখনো কল্পনা কবে নি। একই ভাবে মানুষ প্রবৃত্তিবশে প্রায় অন্ধ নিশ্চিন্ততায় উপনীত হয় যে তার চারপাশের আবরণ যতই ঘন হোক না কেন, প্রকৃতির গর্ভ থেকে আত্মার জগতে সে জন্মগ্রহণ করবেই। সে জগতে মানুষের সৃষ্টির স্বাধীনতা আছে। সেখানে সে অসীমের সঙ্গে সহযোগিতা করে । সেখানে তার স্বষ্টি ও ঈশ্বরের সৃষ্টি ঐক্যচেতনায় মিলিত হয় । প্রায় সকল ধর্মব্যবস্থায় নৈরাশ্বের একটি বড়ো ক্ষেত্র আছে । সে ক্ষেত্রে জীবনকে মনে করা হয় অসৎ, আর এই জগৎকে ফাদ བགི གྀ་