পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমরা নিশ্চয় জানি কালান্তরের পর্বগুলির নিজস্ব ভাষা আছে, কিন্তু আক্ষরিক অর্থে তা গ্রহণ করা যায় না। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হবার দাবির উপর প্রচণ্ড জোর- দিয়ে মানুষের কাছে আত্মার আবির্ভাব ঘোষিত হল। মনে হল প্রকৃতির বিরুদ্ধে উৎসাদনের লড়াই চালাতে আত্মা উদ্যত হয়েছে। কিন্তু তা হল নেতিবাচক দিক। যখন স্বাধীনতার জন্য বিদ্রোহ দেখা দেয়, তখন তা নৈরাশ্যের রূপ নেয়। তথাপি বিদ্রোহের সত্য তাৎপর্য সরকারের ধ্বংস নয়, সরকারের মুক্তিসাধন। এই ভাবেই আধ্যাত্মিক জগতে আত্মার আবির্ভাবের তাৎপর্য এই নয় যে আমরা যাকে প্রকৃতি বলি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছেদন, বরং সম্পর্কের স্বাধীনতা ও অনুভূতির পূর্ণতা প্রতিষ্ঠাই কাম্য। জন্মের আগে অন্ধ ও খঞ্জ শিশুর মতোই আমরা প্রকৃতিরাজ্যে অন্ধ ও খঞ্জ হয়ে আছি। কিন্তু অধ্যাত্মজীবনে আমরা মুক্তিতে জন্মগ্রহণ করি । আর তখন আমরা প্রকৃতির অন্ধদাসত্ব থেকে মুক্ত বলে প্রকৃতি আমাদের কাছে আলোকময়ী হয়ে ওঠে এবং যেখানে আগে কেবল আবরণ দেখেছি সেখানে এখন প্রকৃতিজননীকে দেখি । কিন্তু মানুষের জীবনে যে স্বাধীনতা এসেছে, তার অন্তিম পরিণতি কি ? প্রশ্নাতীত লোকে এই স্বাধীনতার নিশ্চয় কোনো তাৎপর্য আছে। পশুর জীবনের চরম তাৎপর্য কী— এই প্রশ্নের উত্তর যা শুনি, এখানে সেই একই উত্তর শুনতে পাই । আহার গ্রহণ করে ও আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তিসাধন করে পশুরা তাদের সত্তাকে অনুভব করে । এবার এই হল শেষ কথা— আমার অস্তিত্ব অনুভব কবা। পশু তা জানে, কিন্তু তার জ্ঞান বোয়ার মতো নয় । তা পশুর কাছে অন্ধ অনুভূতিরূপে আসে ; তাতে অনুভূতির ግሯ»