পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আলো নেই। আর যদিচ তা সত্যকে জাগ্রত করে, তাকে তমসাচ্ছন্ন ক’রে রাখে। তা হল অবশিষ্ট সত্তাহীনতা থেকে বিশিষ্ট সত্তায় চেতনার উত্তরণ | নিজেকে কেন্দ্র বলে অনুভব করার মতো বৃত্তপথ এই চেতনার অাছে। * মুক্তিরও অন্তিম পরিণতি এই জ্ঞান— ‘আমি আছি । কিন্তু তা হল সত্তার স্বাতন্ত্র্য থেকে মানুষের চেতনার পথচ্যুতি ও সর্বানুভূতির আশ্রয়প্রাপ্তি। নিছক বিস্তারে এই মুক্তি পূর্ণতা লাভ করে না । মুক্তির যথার্থ পূর্ণতা তার তীব্রতায়, তারই নাম ভালোবাসা । মাতৃগর্ভ থেকে শিশুর জন্মলাভে যে মুক্তি, তা তার মায়ের পূর্ণতর চেতনায় সম্পূর্ণতা লাভ করে না ; ভালোবাসার মধ্যে মায়ের সম্পর্কে তীব্র চেতনায় তা সম্পূর্ণ হয়ে ওঠে । মাতৃগর্ভে এই শিশু আহার ও উত্তাপ পেয়েছিল ; কিন্তু তার নিঃসঙ্গতায় শিশুকে সংকীর্ণ ক্ষেত্রে আত্মতৃপ্ত থাকতে হয়েছিল। জন্মের পর শিশুর মুক্তির মধ্য দিয়ে জননী ও শিশুর মধ্যে ভালোবাসার আন্তর-যোগাযোগ শিশুকে তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণতম চেতনার আনন্দে প্রতিষ্ঠিত করল । শিশুর জগতের সব-কিছুর তাৎপর্য জননীর ভালোবাসায় শিশুটির কাছে উদ্‌ঘাটিত হল। যদি শিশুটি কেবল আহারকারী শারীরযন্ত্র মাত্র হত, তবে তার জগতের মধ্যে শিকড় চালিয়ে দিয়ে শিশুটি বিকশিত হতে পারত। কিন্তু শিশুটি একটি ব্যক্তি, ও তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ উপলব্ধি প্রয়োজন। আর, সে উপলব্ধি কখনোই মাতৃগর্ভের অধীনতায় পাওয়া যেতে পারে না। শিশুকে মুক্ত হতে হবে। তার ব্যক্তিত্বের মুক্তি পূর্ণতা লাভ করবে নিজের মধ্যে নয়, অপর ব্যক্তিত্বের মধ্যে। তা হল ভালোবাসা । এ কথা সত্য নয় যে পশুরা ভালোবাসা উপলব্ধি করে না । tre