পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কিন্তু সে উপলব্ধি এত দুর্বল যে তা পশুর চেতনাকে সেই স্তরে উদ্দীপ্ত করতে পারে না যেখানে ভালোবাসার পূর্ণ সত্য তাদের কাছে উদঘাটিত হবে। তাদের ভালোবাসায় একটা আলোর ছটা আছে, তা তাদের সত্তাকে উজ্জল করে তোলে ; কিন্তু তার মধ্যে সেই শিখা নেই যা ব্যক্তিত্বের রহস্যকে অতিক্রম ক’রে যায়। এই আলোর পাল্লা খুব কাছের, তা কেবল ব্যক্তিত্ব নামক আপাতঅসন্তাব্যের দিকে ইঙ্গিত করে । এই ব্যক্তিত্বই একের নিজস্ব সত্তার ঐক্যোপলব্ধি, অথচ তা অপরের সঙ্গে সম্পর্কের ঐক্যেই যথার্থ সত্যকে লাভ করে । মানুষকে এই আপাত-অসম্ভাব্য আরো উপলব্ধি করিয়েছে— যে প্রকৃতিতে আমরা জন্মগ্রহণ করেছি, তা নিছক অসম্পূর্ণ সত্য, তা মাতৃগর্ভের সত্যের মতোই অসম্পূর্ণ। বরং পূর্ণ সত্য এই যে, আমরা অনন্ত ব্যক্তিত্বের কোলে জন্মেছি । আমাদের সত্য জগৎ জড়পদার্থ ও শক্তির নিয়মের জগৎ নয় ; তা হল ব্যক্তিত্বেব জগৎ । আমরা যখন তা সম্পূর্ণরূপে উপলব্ধি করি, তখনি আমাদের মুক্তি পূর্ণতা লাভ করে। তখন উপনিষৎ যে-কথা বলেছেন, তা আমরা বুঝতে পারি— ঈশ বাস্তমিদং সৰ্বং যৎ কিঞ্চ জগত্যাং জগৎ । তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথাঃ । আমরা দেখেছি, সব-কিছু থেকে স্বাতন্ত্র্যের অনুভূতি হল ব্যক্তিত্বের চেতনার সূচনাস্থল, এবং তা সব-কিছুর সঙ্গে ঐক্যানুভূতিতে পরিণতি লাভ করে। এ কথা বলা অনাবশ্বক যে স্বাতন্ত্র্যের চেতনার সঙ্গে অবশ্যই ঐক্যচেতনা থাকবে, কেননা তা কেবল নিজের উপর দাড়াতে পারে না । কিন্তু যে জীবনে স্বাতন্ত্র্যের চেতনা প্রথমে আসে ও ঐক্যচেতনা পরে আসে, ও >制 br وV