পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেই কারণে ব্যক্তিত্ব সংকীর্ণ ও সত্যের আলোয় অনুজ্জল— সে জীবন হল ব্যক্তিসত্তার জীবন । কিন্তু যে জীবনে ঐক্যচেতনা মুখ্য উপাদান ও স্বাতন্ত্র্যের চেতনা গৌণ, ও সেই কারণে ব্যক্তিত্বে বিশাল, ও সত্যের আলোয় দীপ্তিমান, সে জীবন হল আত্মার জীবন । মানুষের সামগ্রিক উদ্দেশ্য হল তার সত্তার ব্যক্তিত্বকে আত্মার ব্যক্তিত্বে মুক্তিদান, তার আন্তর শক্তিগুলিকে সামনের দিকে অনন্তের পথে পরিচালন, আকাজক্ষায় সত্তার বিরোধিতাকে ভালোবাসায় আত্মার বিস্তৃতিতে রূপান্তর সাধন । এই ব্যক্তিত্ব একত্বের সচেতন নীতি ও সকল সম্পর্কের কেন্দ্রস্থল,— তাই হল সত্যতা । সে-কারণেই সাধনার পরম লক্ষ্যস্থল। আমি অবশ্যই এই তথ্যের উপর জোর দেব যে, এই জগৎ কেবল একটি কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বের সম্পর্কেই সত্য জগৎ । যখন সেই কেন্দ্র অপসারিত হয়, তখন সেই জগৎ টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ে, নানা বিমূর্ততার স্তুপে পরিণত হয়। যদি কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত যুক্তিসঙ্গত ব্যক্তির সঙ্গে জড়পদার্থ, শক্তি, প্রতীক, এমন-কি সত্যের ক্ষীণতম সাদৃশ্যসমূহ– কোনো যুক্তিসঙ্গতি দ্বারা সম্পর্কিত হয়, তবে তার অন্তৰ্ধানে সব-কিছুই একান্ত শূন্যতায় বিলীন হয়ে যায় । কিন্তু এই-সব কেন্দ্র অসংখ্য। প্রতি প্রাণীরই আপন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত নিজস্ব ক্ষুদ্র জগৎ আছে । সেইজন্যে স্বভাবতই আমাদের মনে প্রশ্ন ওঠে— এই সত্যতা কি বহু, তারা কি একে অপরের সঙ্গে কোনোমতেই মিলতে পারে না ? যদি আমাদের ইতিবাচক উত্তর দিতে হয়, তবে আমাদের সমস্ত প্রকৃতি বিদ্রোহ করে। কারণ আমরা জানি যে, আমাদের মধ্যে একত্বের নীতি সকল সত্যতার ভিত্তিভূমি। সুতরাং, সংশয়

  • アベ