পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ও তর্কবিতর্কের অন্ধকার উষাকাল থেকে তার সকল প্রশ্ন ও কল্পনার মধ্য দিয়ে মানুষ এই সত্যে উপনীত হয়েছে যে, এক অনন্ত কেন্দ্র আছেন র্যার সঙ্গে সকল ব্যক্তিত্ব, ও সেকারণে সকল সত্যতার জগৎ সম্পর্কবন্ধনে আবদ্ধ। তিনি মহান্তং পুরুষমা, এক মহান পুরুষ ; তিনি ‘সত্যম, এক মহান সত্যতা ; তিনি ‘জ্ঞানম, র্তার মধ্যে সকল জ্ঞাতার জ্ঞান রয়েছে, সুতরাং সকল জানার মধ্যে তিনি নিজেকে জানেন ; তিনি ‘সর্বানুভূঃ, তিনি র্তার মধ্যে সকল প্রাণীর অনুভূতি অনুভব করেন, সুতরাং সকল অনুভূতির মধ্যে তিনি নিজেকে অনুভব করেন। কিন্তু সকল সত্যতার কেন্দ্র এই মহান পুরুষ নিছক নিক্রিয়, নেতিবাচক গ্রহণকারী সত্য নন,— ‘আনন্দরূপম অমৃতম যৎ বিভাতি । তিনি আনন্দ, সকল রূপের মধ্যে নিজেকেই প্রকাশ করেন । তার ইচ্ছাশক্তিতে সকল সৃষ্টি হয় । আইনের জগতে নয় মুক্তির জগতে, প্রকৃতির জগতে নয় অধ্যাত্মজগতে ইচ্ছাশক্তির পরম দায়িত্ব রয়েছে। অন্তরের মধ্যে তা আমরা জানি । আমাদের ক্রীতদাসের আমাদের আদেশ পালন করে, আমাদের প্রয়োজন মেটায়, কিন্তু তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পূর্ণতা লাভ করে নি। আমাদের ইচ্ছাশক্তির নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে। তা কেবল অপর ইচ্ছাশক্তির স্বাধীনতায় সত্য সঙ্গতি খুজে পায়। যেখানে আমরা আমাদের স্বার্থ কাজক্ষার দাস, সেখানে আমরা ক্রীতদাসের মধ্যে তৃপ্তি পাই। কারণ ক্রীতদাস আমাদের নিজস্ব দাসত্বের প্রতিফলন মাত্র, তা আমাদের কাছে ফিরে আসে, আমাদের পরনির্ভর ক’রে তোলে। সেই কারণে যখন আমেরিকা তার ক্রীতদাসদের মুক্তি দিয়েছিল, তখন সে নিজেকে মুক্ত করেছিল। b'W2