পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শিক্ষাতত্ত্ব নিয়ে ও শান্তিনিকেতনে তার নিজের শিক্ষাপদ্ধতি কী ভাবে তিনি কাজে লাগাচ্ছেন সে সম্বন্ধে আলোচনা করেন। সাতস্কি প্রমুখ সোভিয়েত শিক্ষাবিদের শিক্ষাতত্ত্ব সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথের আলোচনা শুনে পরম বিস্ময় প্রকাশ করেন । র্তার শিক্ষাতত্ত্বের আলোচনা রবীন্দ্রনাথ এই প্রবন্ধটিতে করেছেন। রবীন্দ্রনাথ নারীর মুক্তি চেয়েছিলেন সমাজের অত্যাচার থেকে। ‘স্ত্রীর পত্র’ গল্পে, পলাতকা’র কয়েকটি কবিতায়, ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসে ও আরো অনেক লেখায় রবীন্দ্রনাথ নারীকে সেবাদাসী ক’রে রাখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। ‘যামিনীর নর্মসহচরী দিবসের কর্মসহচরী হোক এই কামনা তিনি সব নারীর হয়ে ও যারা যথার্থ পুরুষ তাদের হয়ে ‘চিত্রাঙ্গদা কাব্যে জানিয়েছেন র্তার যৌবনকালে । কিন্তু পুরুষের জীবনের নকলনবিশিয়ানা করলে নারীর এই মুক্তিসাধন যে ব্যর্থ হয়ে যাবে সে কথা রবীন্দ্রনাথ নারীদের বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন । পুরুষের হচ্ছে প্রকৃতির বাধন কাটিয়ে জীবনের পরিধি বাড়ানোর সাধনা । এটা হচ্ছে শক্তিসাধনার পথ, কিন্তু এই শক্তিসাধনা আমাদের সর্বনাশের মধ্যে ঠেলে দেয় যদি আমরা শক্তিকে ছন্দের ও মাধুর্যের বন্ধনে বাধতে না পারি। এইখানেই নারীর কাজ শুরু হল— জীবনটাকে মাধুর্যের ছন্দে, রূপের ছন্দে বাধার কাজ। সমকালীন সভ্যতায় পুরুষের শক্তির ছাপ আছে, কেননা এটা পুরুষের তৈরি সভ্যতা । মেয়ের ছায়ালোকবাসিনী হয়ে আছে। তাই সংঘাত, তাই যুদ্ধ। যদি মেয়েরা এই সভ্যতাকে গড়ে , তোলবার কাজে অংশ নিত তা হলে শক্তি সৌন্দর্যের বশ্যতা স্বীকার করত। পুরুষের শক্তিসাধনার দৃষ্টিতে মানুষ হচ্ছে শুধু প্রয়োজন-সাধনের যন্ত্র। মানুষটির নয়