পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সে মুক্তি কেবল আত্মিক দাসত্ব থেকে নয়, জাগতিক দাসত্ব থেকেও মুক্তি। আমাদের চরম আনন্দ ভালোবাসায়। কারণ সেখানেই আমরা অপরের ইচ্ছার স্বাধীনতাকে উপলব্ধি করি। বন্ধুদের মধ্যে পূর্ণ স্বাধীনতায় আমাদের ইচ্ছাশক্তির সঙ্গে অপরের ইচ্ছাশক্তির মিলন হয় । সে মিলন অভাব বা ভয়ে বাধ্য হয়ে মিলন নয় । সুতরাং ভালোবাসাতেই আমাদের ব্যক্তিত্ব তার চরম উপলব্ধিকে পায । , আমাদের ইচ্ছাশক্তির সত্য তার স্বাধীনতায় নিহিত, সুতরাং আমাদের সকল বিশুদ্ধ আনন্দের উৎস স্বাধীনতা । আমাদের প্রয়োজনসাধনে স্থখ আছে— কিন্তু এই সুখ নেতিবাচক । কেননা প্রয়োজন একটা বন্ধন, তার পূর্ণতাসাধনেই আমরা ত৷ থেকে মুক্তি পাই। কিন্তু সেখানেই তার সমাপ্তি। সৌন্দর্যে আমাদের যে আনন্দ, তা থেকে এই সুখ ভিন্নতর। এই আনন্দ ইতিবাচক । কারণ যা-ই হোক না কেন, ঐক্যের ছন্দে আমরা পূর্ণতাকে পাই । সেখানে আমরা পদার্থকে দেখি না, আইনকে দেখি না, কিন্তু আমাদের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কোনো-কিছুর সম্পর্ককে দেখি। নিছক রেখা ও জড়পদার্থের বন্ধন থেকে এমন-কিছু বেরিয়ে আসে যা সকল সংকীর্ণ সীমার উর্ধের্ব— ত৷ হল সম্পর্কের সম্পূর্ণ ঐক্য। আমরা তৎক্ষণাৎ বিচ্ছিন্ন বস্তুসমূহের অর্থহীনতার পীড়ন থেকে নিজেদের মুক্ত বলে অনুভব করি । এই-সব বস্তু এখন আমাদের এমন-কিছু দেয় যা আমাদের নিজস্ব সত্তার সঙ্গে ব্যক্তি-সম্পর্কে আবদ্ধ। প্রকৃতির মধ্যে আমরা ঐক্যের যে নিক্রিয় পূর্ণপ্রকাশ লক্ষ্য করি, তা হল সৌন্দর্য। ঐক্যের যে সক্রিয় পূর্ণপ্রকাশ আমরা আত্মিক জগতে লক্ষ্য করি, তা হল ভালোবাসা । তা আমুপাতিক ছন্দে প্রকাশিত হয় না, Եր8