পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নানা ইচ্ছার ছন্দে ধরা পড়ে। মুক্ত ইচ্ছাশক্তি অন্যান্য মুক্ত ইচ্ছাশক্তির মধ্যে অবশ্যই তার ঐক্যের উপলব্ধি খুজবে, এবং এই হল আত্মিক জীবনের তাৎপর্য । ব্যক্তিত্বের অসীম কেন্দ্র মুক্তির মধ্যে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে তার আনন্দ বিকিরণ করছে। সেই কেন্দ্র অবশ্যই মুক্তির অন্যান্য কেন্দ্র স্বজন করবে ও তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হবে । নিয়মবদ্ধ বস্তুর মধ্যে ঐক্যের উপলব্ধি হল সৌন্দর্য। মুক্ত ইচ্ছাশক্তির মধ্যে ঐক্যের উপলব্ধি হল ভালোবাসা । মানুষের মধ্যে এই-সব মুক্তিকেন্দ্র স্বজিত হয়েছে। প্রকৃতির দাক্ষিণ্য গ্রহণ করাই মানুষের কাজ নয়। সে অবশ্যই তার ক্ষমতা-সৃষ্টি ও ভালোবাসার পূর্ণতায় নিজেকে বাইবে বিকীর্ণ করে দেবে। মানুষের গতি অবশ্যই মহান পুরুষের অভিমুখে ধাবিত হবে । সেই মহান পুরুষের গতিও মানুষের অভিমুখে চালিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক জগৎ ঈশ্বরের নিজস্ব সৃষ্টি, আমরা তাকে কেবল গ্রহণ করতে পারি, ও গ্রহণ করে তাকে নিজের করে তুলতে পারি। কিন্তু আত্মিক জগৎ -স্বষ্টিতে আমরা ঈশ্বরের কাজের অংশীদার । এই কাজে ঈশ্বরকে আমাদের ইচ্ছার সঙ্গে র্তার ইচ্ছার ঐক্যসাধনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ক্ষমতার দ্বারা এই আত্মিক জগৎ গড়ে তোলা যায় না। এই জগতের কোনো সুদূরতম কোণে কোনো নিক্রিয়তা নেই, কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ছলনার সমস্ত কুয়াশা থেকে চেতনাকে মুক্ত করতে হবে, ইচ্ছাশক্তিকে সকল প্রবৃত্তি ও আকাজক্ষার বিরোধী শক্তি থেকে মুক্ত করতে হবে, এবং তখন ঈশ্বর যেখানে স্থষ্টি করেন সেখানে তার সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ হবে । সেখানে কোনো নিক্রিয় মিলন হতে পারে না— কারণ তিনি নিক্রিয় br●