পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সত্তা নন । র্তার সঙ্গে আমাদের নিছক উপহার-গ্রহীতার সম্পর্ক সম্পূর্ণ সত্য নয়, কারণ তা একদেশদর্শী এবং সেই কারণে তা অসম্পূর্ণ সম্পর্ক। তিনি তার নিজস্ব পূর্ণতাকে আমাদের দান করেন, আর আমরাও আমাদের প্রাচুর্য থেকে তাকে দিই। আর এখানেই সত্য আনন্দ নিহিত, তা কেবল আমাদের জন্য নয়, ঈশ্বরের জন্যও । আমাদের দেশে বৈষ্ণবেরা এই সত্য উপলব্ধি করেছিলেন ও সাহসের সঙ্গে তা প্রকাশ করেছিলেন । র্তারা বলেছিলেন, ঈশ্বরকে র্তার ভালোবাসার পূর্ণতার জন্য মানব-আত্মার উপর নির্ভর করতে হয়। ভালোবাসায় অবশ্যই মুক্তি আছে। সুতরাং ঈশ্বরকে অপেক্ষা করতে হয় যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের আত্মা তাদের আপন ইচ্ছামত নিজেদেরকে ঈশ্বরের আত্মার ঐক্যপথে নিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, বাধা-বিদ্রোহ থাকলে ঈশ্বরকে যন্ত্রণাও ভোগ করতে হয় । আত্মিক জগতের সৃষ্টিতে মানুষকে ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হয়ে কাজ করতে হয় । সে কারণে সেখানে এমন অনেক যন্ত্রণা আছে যার সম্পর্কে পশুর কোনো ধারণা নেই। যখন বাজনার তার বাধা হয় তখন বেস্থরগুলি তীব্রভাবে বেজে ওঠে, আর প্রায় তারগুলি ছিড়ে যায়। এই দিক থেকে দেখলে মনে হয় মানুষ ও ঈশ্বরের মধ্যে সহযোগিতার কাজটি অর্থহীন ও অপকারী। এই ভাবনার ফলে এই স্থষ্টির হৃদয়কেন্দ্রে প্রতিটি ভুল ও বেখাপ্পা কাজ ছুরিকাঘাতের মতো এসে পড়ে ও তার ফলে আত্মার জগৎ রক্তাক্ত হয় ও যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে। স্বাধীনতা প্রায়শই নেতিবাচক পথ গ্রহণ ক’রে প্রমাণ করতে চায় যে তা হল স্বাধীনতা । আর মানুষ যন্ত্রণা ভোগ করেছে ও ঈশ্বর তার br &)