পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সঙ্গেই আছেন এইজন্যে যে, এই আধ্যাত্মিক জগৎ অগ্নিস্নান ক’রে উলঙ্গ ও পবিত্র হয়ে দেখা দেবে এবং তার সকল অঙ্গে দিব্যশিশুর মতো আলোক বিকীর্ণ করবে। এই জগতে শঠতা ও মিথ্যা আছে, নিষ্ঠুর ঔদ্ধত্য ক্ষতমুখে এসে পড়ে, ঈশ্বরের নাম ক’রে মানুষকে অপমান করার অধ্যাত্ম-গর্ব আছে, ও ঈশ্বরকে আপন মিত্র বলে অপমান করে এমন ক্ষমতা-গর্ব আছে । আমর। জানি এই জগতে বহু শতাব্দীর কণ্ঠহারা যন্ত্রণার গুমরে গুমরে কান্না রয়েছে, ও সর্বকালের জন্য শক্তিচু্যত পঙ্গু অসহায় মানবসন্তানেরা রয়েছে। এই জগতে দাসত্বের রক্তমাখা ঘৰ্মবিন্দুতে উর্বর ক্ষেত্রে বিলাসিতার চর্চা হয়েছে, আর দারিদ্র্য ও তুর্ভিক্ষের উপর সম্পদের প্রতিষ্ঠা হয়েছে। কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করি, দৈত্যসম নেতিবাচক আত্মা কি জয়যুক্ত হয়েছে ? এই আত্মা অনন্তের হৃদয়ে যে যন্ত্রণা সৃষ্টি করেছে, সেখানেই কি তার বৃহত্তম পরাজয় ঘটে নি ? আর, পথপ্রান্তের ঘাস ও মাঠের ফুল কি প্রতি মুহুর্তে তার অহঙ্কত অস্তিত্ব ও নির্দয় গর্বকে লজ্জা দিচ্ছে না ? মানুষ ও ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কৃত পাপ কি তার মাথায় আপনি শাস্তিস্বরূপ ঘৃণার মুকুট পরিয়ে দিচ্ছে না ? হা, মানুষের মধ্যে যে ঐশ্বরিক সত্তা আছে, তা সাফল্য বা সংগঠনকে ভয় করে না । তা বিচক্ষণতা ও শক্তির আয়তনের সতর্কতায় বিশ্বাস করে না । মানুষের মধ্যকার এই ঐশ্বরিক সত্তার শক্তি পেশীতে বা যন্ত্রে নিহিত নয়, কর্মনীতির চাতুর্য বা বিবেকের হৃদয়হীনতাতেও নেই । সে শক্তি আছে তার পূর্ণতার আত্মায়। বাইরের রূপে তা শিশুর মতো অসহায়, কিন্তু রজনীতে তার যন্ত্রণার অশ্রুতে স্বর্গের সব অদৃশ্য শক্তি চলতে শুরু করে, সকল স্থষ্টির মধ্যেকার জননী জাগ্রত হন । বন্দীশালার প্রাচীর ভেঙে পড়ে, সম্পদের রাশি তার tቃዓ