পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তখনি মুক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের ভালোবাসা মানব-আত্মার উপর পূর্ণভাবে ক্রিয়া করতে পারে। এই আত্মসমর্পণ হল ঈশ্বরের সঙ্গে আমাদের আত্মার জীবনের স্বেচ্ছা-সহযোগিতা। নিয়মের জগৎকে প্রেমের জগতে রূপান্তরিত করার সাধনার ক্ষেত্রেই এই সহযোগিতা । মানুষের ইতিহাসে এমন-সব মুহূর্ত এসেছে যখন ঈশ্বরের জীবন-সংগীত পরিপূর্ণ সঙ্গতিতে মানবজীবনকে স্পর্শ করেছে, এবং সে সংগীত আমরা শুনেছি। আমরা জেনেছি যে, মানুষের ব্যক্তিত্বের পূর্ণতা প্রকাশিত হয় আপন ক্ষেত্রে ঈশ্বরের প্রকৃতি গ্রহণে ও ভালোবাসার প্রাচুর্যে আত্মদানে। মানুষ এই প্রকৃতির জগতে নানা মানবিক বাধা ও ক্ষুধা নিয়ে জন্মেছে। তথাপি মানুষ প্রমাণ করেছে যে সে অধ্যাত্ম জগতে নিঃশ্বাস নিয়েছে, এবং সর্বাপেক্ষা বড়ো সত্য হল এই যে ভালোবাসার পূর্ণ মিলনেই ব্যক্তিত্বের মুক্তি। মানুষ নিজেকে সকল স্বার্থ-আকাঙ্ক্ষা থেকে মুক্ত করেছে, জাতি ও জাতীয়তাবোধের সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করেছে, ভয় এবং মতবাদ ও প্রথার দাসত্ব থেকে মুক্ত করেছে। অনন্তের সঙ্গে মুক্ত সক্রিয় জীবনের যোগে ও ত্যাগের সীমাহীন প্রাচুর্যে মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে এক হয়েছে। মানুষ দুঃখ পেয়েছে ও ভালোবেসেছে । জগতের সকল অসতের আঘাত মানুষ বুক পেতে নিয়েছে ও প্রমাণ করেছে যে, আত্মার জীবন মৃত্যুহীন । কত বিশাল রাজ্য তাদের আকৃতি বদলেছে ও মেঘের মতো অদৃশ্ব হয়ে গেছে, কত প্রতিষ্ঠান স্বপ্নের মতো আকাশে বিলীন হয়ে গেছে, কত জাতি তাদের কাজ করেছে ও বিস্মৃতিতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ; কিন্তু এই-সব ব্যক্তি তাদের মধ্যে সকল মানুষের মৃত্যুহীন জীবনকে বহন করে চলেছে। তাদের বিরামহীন জীবন প্রবল বন্যাবেগে নদীর মতো কত শু্যামল প্রান্তর ও Ե :)