পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার বিদ্যালয় যখন আমার বয়স প্রায় চল্লিশ, তখন বাংলাদেশে আমি একটি বিদ্যালয় খুলেছিলাম। অবশ্যই আমার মতো ব্যক্তি যে জীবনের বড়ো অংশ লিখে, প্রধানতঃ কবিতা রচনা ক’রে কাটিয়েছে, তার কাছ থেকে তা কখনোই আশা করা হয় নি। সুতরাং স্বভাবতই লোকে এ কথা ভেবেছিল যে, বিদ্যালয় হিসেবে এটা খুব ভালোকিছু হবে না, বরং দুঃসাহসিক অনভিজ্ঞতার ফলরূপে এটি একেবারেই নতুন-কিছু হবে। এই হল অন্যতম কারণ— যার জন্য আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করা হয় কোন আদর্শের ভিত্তিতে আমার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত। আমার পক্ষে প্রশ্নটি খুবই বিব্রতকর, কারণ আমার প্রশ্নকারীদের খুশি করার জন্যে আমি আমার উত্তরে সাধারণ কথা বলতে পারি না। যাই হোক, মৌলিক কিছু হবার লোভ সংবরণ ক’রে আমি নিছক সত্যনিষ্ঠ হয়েই তৃপ্ত থাকব। প্রথমতঃ, আমি অবশ্যই স্বীকার করব যে কোন আদর্শের ভিত্তিতে আমার বিদ্যালয় গঠিত, তা ব্যাখ্যা করা আমার পক্ষে কঠিন। কাবণ যার উপরে একটা বাড়ি গড়ে তোলা যায়, তেমন কোনো স্থায়ী ভিত্তিপ্রস্তরের মতো এই আদর্শ স্থায়ী নয়। এই আদর্শ বরং একটা বীজের মতো, তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না, ও কোনখানে বীজ গাছে পরিণত হতে শুরু করেছে তা দেখানো যায় না । যে উৎসের কাছে এই বিদ্যালয় ঋণী, সে যে কী ছিল, তা আমি জানি। সেটি শিক্ষার কোনো নতুন তত্ত্ব নয়, বরং তা হল আমার বিদ্যালয়-জীবনের স্মৃতি । & S.