পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৭

From উইকিসংকলন
Jump to navigation Jump to search
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেই দিনগুলি যে আমার পক্ষে সুখের হয় নি, তার জন্তে আমি আমার বিশিষ্ট মেজাজকে দায়ী করি না, বা যে-সব বিদ্যালয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছিল, তাদের বিশেষ কোনো দোষ ছিল, তা-ও বলি না । এটা হওয়া সম্ভব ছিল যে যদি আমি কিছু কম অনুভূতিপ্রবণ হতাম, তবে আমি ধীরে ধীরে নিজেকে চাপের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারতাম, এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাধি অর্জনের মতে উপযুক্ত কাল টিকে যেতাম। কিন্তু বিদ্যালয় হল বিদ্যালয়, যদিও তাদের নিজ অাদর্শ অনুযায়ী কোনোট ভালো, কোনোট অপেক্ষাকৃত মন্দ । শিশুরা তাদেব মাতৃস্তন্তে পালিত হবে, এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা একই সময়ে তাদের খাদ্য ও তাদের জননীকে পায়। তা শিশুদেব শরীর ও আত্মার পক্ষে সম্পূর্ণ খাদ্য। জগতের সঙ্গে মানুষের সত্য সম্পর্ক কার্যকারণের যান্ত্রিক নিয়মের উপর নয়, ব্যক্তিগত ভালোবাসার উপরেই প্রতিষ্ঠিত— এই মহান সত্যের সঙ্গে শিশুদের প্রথম পরিচয় এখানেই ঘটে । কোনো গ্রন্থেব সূচনা ও উপসংহারের একই ধরণের বৈশিষ্ট্য আছে। উভয় ক্ষেত্রেই সত্যের সম্পূর্ণ রূপটি দেওয়া হয়। সূচনায় তা সরল, কেননা তা ব্যাখ্যাত নয়, আর উপসংহারে তা পুনবায় সরল হয় কেননা সেখানে তা পূর্ণরুপে ব্যাখ্যাত। সত্যের একটি মধ্যপথ আছে, সেখানে তা জটিল হয়ে ওঠে, বাধাবিপত্তির বিরুদ্ধে নিজেকে আঘাত করে, টুকরে টুকরো হয়ে নিজেকে ভেঙে ফেলে, পূর্ণতর ঐক্যের উপলব্ধিতে নিজেকে ফিবে পায়। একই ভাবে এই জগতের সঙ্গে মামুষের প্রথম পরিচয় হচ্ছে— তার চূড়ান্ত সত্যের সঙ্গে মানুষের প্রথম সরল পরিচয়। মানুষ এই জগতে জন্মায়, জগৎ তার কাছে গভীরভাবে জীবন্ত । এখানে