পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মানুষ ব্যক্তিরূপে তার পরিবেশের পূর্ণ মনোযোগ অধিকার করে । তারপরে সে বড়ো হয় ও বাস্তবতার এই একান্ত ব্যক্তিগত দিকটিকে সন্দেহ করতে শুরু করে। তখন মানুষ বস্তুর জটিলতায় নিজেকে হারায়, তার পরিবেশ থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নেয়, ও প্রায়ই শত্রুভাবাপন্ন হয় । কিন্তু সত্যের ঐক্যবোধের এই ভাঙন, মানুষের ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তার বাইরেব জগতের আপোসহীন গৃহযুদ্ধ— এই-সব কখনোই অন্তহীন বিবাদের মধ্যে ঐক্যকে খুজে পাবে না । তার ফলে তার জীবনের সত্য উপসংহার খুজে পাবার জন্য মানুষকে সংশয়ের বিচ্যুতির মধ্য দিয়ে পূর্ণ সত্যের সারল্যে ফিরে আসতে হয়, সব-কিছুর সঙ্গে তার ভালোবাসার ঐক্যবন্ধনে ফিরে আসতে হয় । স্বতরাং (আমাদের শৈশবকে জীবনতৃষ্ণার পূর্ণ পরিমাণ দেওয়া প্রয়োজন, কারণ তার অন্তহীন তৃষ্ণা রয়েছে । চারপাশের জগতের সঙ্গে এই মানবিক জগতের সঙ্গতি রয়েছে— এই ধারণায় শিশুমন সিক্ত হওয়া প্রয়োজন । আর ঠিক এই ব্যাপারটাই আমাদের প্রচলিত ধরণের বিদ্যালয় উচ্চতর জ্ঞানের অহমিকায় নিষ্করুণভাবে তাচ্ছিল্যের সঙ্গে অগ্রাহ্য করে । ঈশ্বরের আপন স্বষ্টির রহস্যময় ও ব্যক্তিত্বের ব্যঞ্জনাপূর্ণ জগৎ থেকে এই বিদ্যালয় জোর ক’রে শিশুদের ছিনিয়ে নিয়ে আসে। এই বিদ্যালয় নিছক শৃঙ্খলারক্ষার প্রক্রিয়া মাত্র, তা ব্যক্তিকে বিবেচনা করতে রাজী নয় । এটা হচ্ছে এক ছাচের ফলাফলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি কারখানা । এই বিদ্যালয় শিক্ষার খাত খননের জন্ত গড় হিসেবের একটা কল্পিত সরল রেখা অনুসরণ করে । কিন্তু জীবনের রেখা সরল রেখা নয়, কারণ জীবন গড় হিসেবের রেখা নিয়ে এদিক-ওদিক খেলতে ভালোবাসে এবং সে কারণে বিদ্যালয়ের ভৎসনাকে মাথ৷

s ○