পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পেতে নেয়। কারণ বিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী জীবন তখনি পূর্ণ বলে বিবেচিত হয় যখন জীবন নিজেকে মৃত বলে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, সুষম সুবিধায় নিজেকে কেটে ফেলতে দেয়। আমাকে যখন বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল তখন আমি এই কারণেই যন্ত্রণা ভোগ করেছিলাম। কারণ হঠাৎ আমি দেখলাম আমার চার দিকে আমার জগৎ বিলীন হয়ে যাচ্ছে, আর কাঠের বেঞ্চি ও সমতল দেয়ালগুলি আমার দিকে অন্ধের শূন্তদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে । আমি বিদ্যালয়-শিক্ষকের হাতে-গড়া বস্তু নই— আমি যখন এই জগতে জন্মেছি তখন সরকারী শিক্ষাপর্ষদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয় নি। কিন্তু আমার স্থজনকর্তার এই ভুলের জন্য তারা আমার উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করবে, এটা কি কোনো যুক্তি হল ? কিন্তু প্রবাদবাক্য বলে যে, জ্ঞানবৃক্ষের ফল খেলে আর স্বর্গে বাস করা যায় না। সুতরাং মানবশিশুদের স্বর্গ থেকে এক মৃত্যুরাজ্যে নির্বাসিত করতে হবে ; সে রাজ্যে দর্জির রুচিরই প্রাধান্ত । সেই কারণে আমার মনকে বিদ্যালয়ের অঁাট-সাট খাপের শাসনকে স্বীকার করে নিতে হল । সেই খাপ চীনা মান্দারিন-রমণীদের জুতোর মতো আমার প্রকৃতিকে সব দিক থেকে প্রতি মুহূর্তে খোচাতে লাগল ও আহত করল। আমি সৌভাগ্যবান যে পাগলামি চেপে বসার আগেই আমি তা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিয়েছিলাম। আমার সামাজিক পর্যায়ের ব্যক্তিদের সংস্কৃতিবান সমাজের অন্তভুক্ত হবার জন্য যে শাস্তি ভোগ করতে হত, যদিও তার পুরোটা আমাকে ভোগ করতে হয নি, তথাপি আমি খুশি যে এই পীড়ন থেকে আমি সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি পাই নি। কারণ ぬ8