পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একটি গাছে চড়ে বসেছে ও একটি শাখার দ্বিধাবিভক্ত স্থানে বসে লেখাপড়ার আয়োজন করছে । এই ঘটনাটির ব্যাখ্যাস্বরূপ অামি তাকে বলেছিলাম যে— শৈশব-ই জীবনের একমাত্র সময় যখন সভ্য মানুষ বৈঠকখানার চেয়ায়ে বসবে, ন, গাছের শাখায় বসবে, তা পছন্দ করতে পারে ; আর বয়স্ক ব্যক্তি হিসেবে আমি এই অধিকারবঞ্চিত বলে আমার পক্ষে কি এই ছেলেটিকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা উচিত হবে ? অাশ্চর্যের বিষয়, সেই একই প্রধান শিক্ষক মশায় ছেলেদের উদ্ভিদবিদ্যাশিক্ষা অনুমোদন করেন । গাছের সম্পর্কে অ-ব্যক্তিগত জ্ঞানলাভে র্তার আস্থ। আছে, কারণ তা হল বিজ্ঞান । কিন্তু গাছের সম্পর্কে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তার আস্থা নেই। অভিজ্ঞতার এই বৃদ্ধির ফলে প্রবৃত্তি দেখা দেয়। এই প্রবৃত্তি হল প্রকৃতির নিজস্ব শিক্ষাপদ্ধতি । আমার বিদ্যালয়ের ছেলেরা উদ্ভিদের শারীরতত্ত্ব সম্পর্কে প্রবৃত্তিগত জ্ঞান আহরণ করেছে। আপাততঃ দুরারোহ গাছের গুড়ির কোনখানে পা রাখার জায়গা পাওয়া যাবে, তা ছেলেরা সামান্য স্পর্শের দ্বারাই জানতে পারে । তারা জানে গাছের শাখার পরে কতটা নির্ভর করা যায়, প্রশাখাগুলিকে ব্যতিব্যস্ত না ক’রে দেহভার কী ভাবে রাখা যায় । ফলসংগ্রহ, বিশ্রামগ্রহণ ও অবাঞ্ছিত পশ্চাদ্ধাবনকারীর হাত এড়িয়ে আত্মগোপনের কাজে গাছকে ছেলেরা ভালোভাবেই কাজে লাগাতে পারে । অামি নিজে শহরের অভিজাত ঘরে লালিত হয়েছি । আর সেখানে আমার ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে আমি সারা জীবন ধরে এমনভাবে চলাফেরা করতে অভ্যস্ত হয়েছি যে মনে হয় সে জগতে গাছের কোনো অস্তিত্ব নেই। স্থতরাং আমি মনে করি, আমার ছেলেদের শিক্ষার একটা অঙ্গ হবে এই যে, তাদের অস্তিত্বের পরিকল্পনায় গাছের একটি বিশেষ

  • > 分