পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হেঁটে গিয়েছি, তার ফলে কাটা পায়ে ফুটেছে। নূ্যনতম বাধার পথ অনুসরণ ক’রে চলার মতো প্রবৃত্তি আমার নেই। কারণ অতি সমতল মাটিতেও ছোটো ছোটো ঢেলা খানাখন্দ, উচু-নীচু আছে। কেবল শিক্ষিত পা তাদের পার্থক্য ঠিক বুঝতে পারে। নিখুঁত প্রান্তরের মধ্য দিয়ে যে অযৌক্তিক অঁাকাবাকা পায়ে-চলা পথ গিয়েছে, তা দেখে আমি অনেক সময় অবাক হয়েছি। যখন আপনি বিবেচনা করেন যে, এই পায়ে-চলা পথ কোনো একজনের খেয়ালখুশিতে তৈরি হয় নি, তখন আরো বিস্মিত হতে হয়। যদি অধিকাংশ পথিকের একই ধরণের খামখেয়াল না থাকত, তবে স্পষ্টতই এই ধরণের অসুবিধাজনক পথ তৈরি হতে পারত না । কিন্তু আসলে দায়ী হচ্ছে ধরাতলের নানা সূক্ষ্ম ইঙ্গিত। অামাদের পদতল সে ইঙ্গিতে অজান্তে সাড়া দেয়। যাদের ক্ষেত্রে ঐ ধরণের সাড়া নষ্ট হয়ে যায় নি, তারা তাদের পায়ের পেশীকে নূ্যনতম ইঙ্গিতমাত্রেই দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। সুতরাং কাটার উপর দিয়ে চলাফেরা করলেও তারা নিজেদের র্কাটার ঘা থেকে বাচাতে পারে, ও বন্ধুর পথে কিছুমাত্র অসুবিধা বোধ না করেই খালি পায়ে হেঁটে যেতে পারে । আমি জানি কাজের জগতে জুতো পরা হবে, রাস্ত বাধানো হবে, গাড়ি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু এই জগতের সবটাই বৈঠকখানা নয়, প্রকৃতি নামে একটি ক্ষেত্র আছে যেখানে শিশুদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সুন্দরভাবে সাড়া দেবার জন্য তৈরি হয়েছে— এই জ্ঞান কি শিক্ষাকালে শিশুদের দেওয়া হবে না ? এমন অনেকে আছেন যারা মনে করেন আমার বিদ্যালয়ে প্রবর্তিত সরল জীবনযাত্রার মধ্য দিয়ে আমি মধ্যযুগীয় দারিদ্র্যের আদর্শ প্রচার করছি। এই বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আমার আজকের বক্তব্যের অন্তভুক্ত নয়, কিন্তু শিক্ষার দৃষ্টি থেকে দেখলে సెస్సె