পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমরা কি এ কথা স্বীকার করব না দারিদ্র্যের বিদ্যালয়েই মানুষ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ পাঠ নেয় ? এমন-কি ক্রোড়পতির পুত্রকেও অসহায় হয়ে জন্মাতে হয় ও গোড়া থেকেই তার জীবনের পাঠ নিতে হয়। যদিও পায়ের সাহায্য ছাড়াই চলাফেরার আবশ্যকীয় সঙ্গতি তার অাছে, তথাপি দরিদ্রতম শিশুর মতোই তাকে হাটতে শিখতে হয় । ধনী হয়ে বঁাচার অর্থ পরিবর্ত জীবনধাবণ, ও কিছুটা পরিমাণ কম বাস্তবতার জগতে জীবনধারণ একজনের সুখ ও গর্ব প্রকাশের পক্ষে এই প্রথা ভালো । কিন্তু শিক্ষালাভের পক্ষে ভালো নয় । সম্পদ নামক সোনার খাচায় ধনী-সন্তানেরা তাদের শক্তির কৃত্রিম নিরীকরণের মধ্যে লালিত হয়। স্থতরাং খরচে অভ্যাসের লোকেদের বিরক্তি সত্ত্বেও আমার বিদ্যালয়ে আমি এই মহৎ শিক্ষককে— আসবাব ও নানা বস্তুর রিক্ততাকে—আহবান করেছি। দারিদ্র্যের কারণে নয়, এই রিক্ত জীবনযাত্রা আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার জগতে পৌছে দেয়, এই কারণেই আমি তাকে স্বাগত জানিয়েছি। আমি বলতে চাই, একটা সীমাবদ্ধ পর্বে মানুষ আদিম মানুষের জীবনযাত্রাকে গ্রহণ করে । সভ্য প্রতিষ্ঠানগুলি অজাত শিশুর জীবনকে বদলাবার সুযোগ পায় নি। মাতৃগর্ভে তার বৃদ্ধিশীল জীবনের প্রথম স্তর সম্পূর্ণ করার মতো অবসর এই অজাত শিশুর আছে । পরবর্তী স্তরে পাকৃতিক জীবন যাপনের জন্য তৈরি সকল প্রবৃত্তি নিয়ে যখন সে জন্মায়, তখনি সভ্য-অভ্যাসের সমাজ তার উপর ঝাপিয়ে পড়ে, এবং শিশুকে পৃথিবী, জল বায়ু, সূর্যালোক ও আকাশের ব্যাকুল আমন্ত্রণ থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়। প্রথম দিকে শিশু লড়াই করে, কান্নার তীব্র আপত্তি জানায়, এবং ক্রমশঃ ভুলে যায় যে ঈশ্বরের স্থষ্টির উত্তরাধিকার তার ছিল। তারপর У о о