পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এই শিশু তার জগতের জানাল বন্ধ করে, পর্দা টেনে দেয়, অর্থহীন হিজিবিজির মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে, এবং তার জগৎ ও সম্ভবতঃ তার আত্মার মূল্যে যা সঞ্চয় করেছে তার জন্য গর্ব অনুভব করে । নানা প্রথা ও বস্তুর সভ্যজগৎ মানুষের অগ্রগতির মাঝপথে এসে দাড়ায়। এই জগৎ না রয়েছে সূচনায়, না রয়েছে শেষে । এই জগতে অসংখ্য জটিলতা ও শিষ্টতার নানা আইন ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন এই জগৎ এ গুলিকে শেষ কথা বলে মেনে নেয়, ও মানুষের জীবনে ধোয়া ও হট্টগোলের মধ্যে কোনো সবুজের ছোয়া আর থাকে না ও ঢেকে-রাখা সাজানো ঔচিত্যবোধ বড়ো হবে বলে স্থির করে, তখন শিশুরা কষ্ট পায়, তরুণদের মনে জগৎ সম্পর্কে নৈরাশ্য দেখা দেয়, এবং বুড়োর শান্তি ও সৌন্দর্যে বাধক্যে পৌছতে ভুলে যায়, বিকৃত যুবক হয়ে পড়ে, ও খানাখন্দ-ভর বাধক্যজীবনের শৈথিল্যের জন্য লজ্জা পায় । যাই হোক, এ কথা নিশ্চিত যে যখন শিশুরা এই জগতে জন্মাবার জন্তে তৈরি, তখন তারা ক্ষত-বিক্ষত ভদ্রতার জন্য দরাদরি করে না । যদি তারা জানত যে সূর্যালোকে যখন তারা চোখ মেলবে, তখন নিজেদের মনের নবীনতা ও ইন্দ্রিয়ের তীক্ষ্ণতা নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তারা শিক্ষা বিভাগের হাতে বন্দী হবে ; তবে মানবজীবন শুরু করার আগে শিশুবা নিশ্চয়ই দুবার ভেবে দেখত। ঈশ্বরের ব্যবস্থা কখনোই উদ্ধতভাবে বিশেষ রকমের ব্যবস্থা নয়। সর্বদাই সব-কিছুর সঙ্গে তাদের বিরতিহীন সম্পর্ক ও সমগ্রতার সংগতি রয়েছে। সুতরাং (আমার ছাত্রজীবনে যা অামাকে যন্ত্রণা দিয়েছে, তা হল বিদ্যালয়ে এই জগতের সমগ্রতার অনুপস্থিতি ) বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা হল পাঠশিক্ষার বিশেষ > e >