পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অর্পিত হল । আমরা জানলাম না যে এই বোকের দ্বারা মানুষের চিন্তাজীবন, শারীরিক জীবন ও অধ্যাত্মজীবনের মধ্যে বিচ্ছেদকে আমরা ত্বরান্বিত করে তুলছি। এই জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো-কিছু বলে নয়, তার অন্তগুঢ় সত্যরূপেই আমি এক অধ্যাত্মজীবনে বিশ্বাস করি । নিশ্বাসগ্রহণের সঙ্গে আমরা নিশ্চয়ই এই সত্যকে অনুভব করব যে আমরা ঈশ্বরের জগতে বাস করি । অনন্তের রহস্যভরা এই বিশাল জগতে জন্মগ্রহণ করে আমরা আমাদের অস্তিত্বকে ক্ষণিক আকস্মিকতার প্রবল আভু্যত্থান বলে মনে করতে পারি না। এক অন্তহীন শূন্যতার দিকে জড়পদার্থের স্রোতে নিজেদের ভাসমান বলে মনে করতে পারি না । অামাদের জীবনকে সর্বকালে নিদ্রিত এক স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন বলে আমরা মনে করতে পারি না । আমাদের একটি ব্যক্তিত্ব আছে। অনন্তরূপে ব্যক্তিগত কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত না হলে তার কাছে জড়পদার্থ ও শক্তি অর্থহীন বলে বিবেচিত হবে । এই অনন্তরূপে ব্যক্তিগত যে শক্তি তার প্রকৃতি খানিকটা পরিমাণে মানুষের ভালোবাসায়, সত্যের মহত্ত্বে, বীর আত্মার আত্মোৎসর্গে, প্রকৃতির অনির্বচনীয় সৌন্দর্যে আমরা আবিষ্কার করেছি। তা কখনোই নিছক প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, তা ব্যক্তিত্বের অভিব্যক্তি ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না । ছোটবেলা থেকে নিবন্তর অগ্ৰাহ করার অভ্যাসের ফলে আমরা এই অধ্যাত্ম জগতের বাস্তবতাকে হারাই। এই অধ্যাত্ম জগতের অভিজ্ঞতাকে শিশুরা অর্জন করতে পারে পূর্ণরূপে এই জগতের মধ্যে বেঁচে থেকে, ধর্মতত্ত্বের আলোচনায় তাকে পাবে না। কিন্তু কী ভাবে তা করা যাবে, সেটা সমস্যা। বর্তমানকালে তার সমাধান হওয়া কঠিন। কারণ অধুনা মানুষ তার সারা 2) o 8