পাতা:ব্যক্তিত্ব - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পাই । এই ব্যবস্থা বহু শতাব্দী ধরে স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছে। কিন্তু আজ বিদেশী আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের চাপে তা ধ্বংস হতে চলেছে । (ইউনিভার্সিটির সংস্কৃত নাম ছিল চতুষ্পাঠী । এই-সব চতুষ্পাঠীতে বিদ্যালয়ের গন্ধ ছিল না। ছাত্রেরা ঘরেব ছেলের মতো তাদের গুরুগৃহে বাস করত, সেখানে খাওয়া-পরা ও শিক্ষার জন্য তাদের কিছু দিতে হত না । গুরু সরল জীবন যাপন করতেন, আপন বিদ্যার অনুশীলন করতেন, এবং ছাত্রদের পাঠে সহায়তা করতেন। সে সাহায্য বৃত্তির খাতিরে নয়, তা গুরুর জীবনেরই অঙ্গ ছিল । গুরুর এক মহৎ আকাজক্ষার জীবন শুরু করার এই শিক্ষাদর্শ আমার মনকে অধিকার করেছিল । আমাদের রুদ্ধ ভবিষ্যৎ ও পঙ্গু সুযোগ-সুবিধার নীচতা আমাকে আরো বেশি ক’রে ঐ অাদর্শ উপলব্ধিব পথে ঠেলে দিয়েছিল । অন্যান্য দেশে যাদের জাগতিক ব্যাপারে সীমাহীন প্রত্যাশা রয়েছে, তারা ঐ-সব ব্যাপারে শিক্ষার উদ্দেশ্যকে নিবদ্ধ করতে পারে। তাদের জীবনের পরিধি এত বিচিত্র ও বিস্তৃত যে তারা তাদের শক্তি বিকাশের আবশ্যকীয় স্বাধীনতা পায় । কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে আমরা নিজেদের ও ঈশ্বরের কাছে যে আত্মসম্মানের জন্য ঋণী, তাকে রক্ষা কবার জন্য অবশ্যই শিক্ষার উদেশ্বকে মানবজীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশুর চেয়ে কিছুমাত্ৰ ক্ষুণ কবব না । সে উদ্দেশ্য হল আত্মার পরিপূর্ণতম বিকাশ ও স্বাধীনতা । অতি সামান্য সম্পদের জন্য কাড়াকড়ি করা নিন্দার কথা। যে জীবন মৃত্যুকে অতিক্রম ক’রে যায় ও সকল অবস্থার উপরে ওঠে, সে জীবনে আমাদের প্রবেশাধিকার লাভ হোক ; আমাদের ঈশ্বরকে আমরা যেন খুজে পাই ; ধূলির দাসত্ব থেকে যা আমাদের মুক্ত করে, এবং যা و ۵ دها