পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


У о ব্যঙ্গকৌতুক অতএব, উক্ত কীট্রক ভট্ট ও পুণ্ড বৰ্দ্ধন মিশ্রের রচিত মোহান্তক ও জ্ঞানাঞ্জন নামক গ্রন্থে ঘদি গ্যালভানিক ব্যাটারি ও অক্সিজেন বাম্পের কোনো উল্লেখ না পা ওয়া যায়, তবে তাহ হইতে কী প্রমাণ হয়, বলা শক্ত । শুদ্ধ এই পর্য্যন্ত বলা যায় যে, উক্ত পণ্ডিতদ্বয়ের সময়ে গ্যালভ্যানিক ব্যাটারি ও অক্সিজেন আবিষ্কৃত হয় নাই । কিন্তু সে সময়ট কী, তাহা আমি অনুমান করিলে মধুসূদন শাস্ত্রী মহাশয় প্রতিবাদ করিবেন, এবং তিনি অল্পমান করিলে আমি প্রতিবাদ করিব, তাহাতে সন্দেহ নাই । অতএব, কীটক ও পুণ্ড বৰ্দ্ধনের নিকট এইখানে বিদায় লইতে হইল । তাহাদের সম্বন্ধে আলোচন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হইল, এজন্য পাঠকদিগের নিকট ক্ষমা ভিক্ষা করি । কিন্তু তাহাদিগকে বিবেচনা করিয়া দেখিতে হইবে যে, প্রথমত নন্দ, উপনন্দ, আনন্দ, ব্যোমপাল, ক্ষেমপাল, অনঙ্গপাল প্রভৃতি আঠারো জন নৃপতির কাল ও বংশাবলী নির্ণয়-সম্বন্ধে মধুসূদন শাস্ত্রীর মত খণ্ডন করিয়া সোমদেব, চোলুকভট্ট, শঙ্কর, কৃপানন্দ, উপমন্ত্য প্রভৃতি পণ্ডিতের জীবিতকাল নিৰ্দ্ধারণ করিতে হইবে ; তাহার পর, তাহাদের রচিত বোধপ্রদীপ, আনন্দসরিং, মুগ্ধচৈতন্যলহরী প্রভৃতি পঞ্চান্নখানি গ্রন্থের জীর্ণবশেষ আলোচনা করিয়া দেখাইব, উহাদের মধ্যে কোনো গ্রন্থেই গ্যালভ্যানিক ব্যাটারি অথবা অক্সিজেনের নাম গন্ধ নাই । উক্ত গ্রন্থসমূহে ষড়চক্রভেদ, সর্পদংশন মন্ত্র, রক্ষাবীজ অাছে এবং একজন পণ্ডিত এমনও মত ব্যক্ত করিয়াছেন যে, স্বপ্নে নিজের লাঙ্গুল দর্শন করিলে ব্রাহ্মণকে ভূমিদান ও কুণ্ডপতনক নামক চাতুৰ্ম্মাস্ত ব্রতপালন আবশ্বক , কিন্তু ব্যাটারি ও বাষ্প বিষয়ে কোনো বর্ণন বা বিধান পাওয়া গেল না । আমরা ক্রমশ ইহার বিস্তারিত সমালোচনা করিয়া, ইতিহাসহীনতা সম্বন্ধে ভারতের দুর্নাম দূর করিব ;--প্রাচীন গ্রন্থ হইতেই স্পষ্ট প্রমাণ করিয়া দিব যে, পুরাকালে