পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লেখার নমুনা ՏՓ দু’খানা হইয়া ভাঙিয়া যা মা, সস্তানের লজ নিবারণ কর জননি । ভাই বঙ্গবাসী, বুঝিয়াছ কি, কোন কলঙ্কের কথা, কোন লাঞ্ছনার কথা, কোন দুঃসহ লজ্জার কথা বলিতেছি, ব্যক্ত করিতেছি, প্রকাশ করিতে গিয়া কণ্ঠ রুদ্ধ হইয়া যাইতেছে ? না, বোঝ নাই, তোমরা বুঝিবে কেন ভাই ! তোমরা মিল বোঝ, স্পেন্সর বোঝ, তোমরা শেলির আধ-আধ ছায়া-ছায়া ভাঙা-ভাঙা কবিত্ব বোঝ, তোমরা গরিবের কথা বুঝিবে কেন, দরিদ্রের কথা শুনিবে কেন, এ অকিঞ্চনের ভাষা তোমাদের কানে যাইবে কেন ? কিন্তু ভাই একটি প্রশ্ন আছে, একটি কথা জিজ্ঞাসা করিব, গুণমণি, ঐ মুখের একটি উত্তর শুনিতে চাই—আচ্ছা ভাই, পরের কথা বোঝ, আর আপনার লোকের কথা বোঝ না, বাহিরের কথা বোঝ, আর ঘরের কথা বুঝিতে পার না, যে আপনার নয়, তাহার কথা বোঝ, যে আপনার, তাহার কথা বোঝ না ? বোঝ না তাহাতেও দুঃখ নাই, তাহাতেও খেদ নাহ, তাহাতেও তিলাৰ্দ্ধমাত্র শোকের কারণ নাই, কিন্তু ভাই, কথাটা ঘে একেবারে হৃদয়ঙ্গমই হয় না, একেবারে যেন অবোধের মতে বসিয়া থাক ! সেই তো আমাদের দুৰ্দ্দশা, সেই তো আমাদের দুরদৃষ্ট ! ভাই বাঙ্গালি, জিজ্ঞাসা করিতে পার বটে, যে কথা আজিকার দিনে কেহ বুঝিবে না, সে কথা তুলিলে কেন, উত্থাপন করিলে কেন ? যে কথা সবাই ভুলিয়াছে, সে কথা মনে করাইয়া দাও কেন ? যে দুর্বিষহ বেদন, যে দুঃসহ ব্যথা, যে অসহ্য যন্ত্রণ নাই, তাহাতে আঘাত দাও কেন ? আমিও তো সেই কথা বলি ভাই ! এই ভাঙা মন্দিরে এই ভাঙা কণ্ঠের প্রতিধ্বনি কেন তুলি ! এই শ্মশানের চিতানলে আবার কেন নূতন করিয়া নয়নজল নিক্ষেপ করি । আর্য্য জননীর সমাধিক্ষেত্রে এই উনবিংশ শতাব্দীর সভ্যশাসিত সভ্যচালিত নব সভ্যতার দিনে আবার কেন নূতন করিয়া নীরবতার তরঙ্গ - উখিত করি ! কেন করি ! তোমরা কী করিয়া বুঝিবে ভাই, কেন করি ! তুমি যে ভাই সভ্য, তুমি কী করিয়া বুঝিবে কেন করি । তুমি যে ভাই