পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রাচীন দেবতার নূতন বিপদ Wo S. কিন্তু তাহা হইলে তাহদের কল্পনাশক্তি ও প্রতিভার খৰ্ব্বত স্বীকার করা হয় বলিয়া ক্ষান্ত আছে । হরি হরি, এই দীর্ঘ জীবনে ঐ দুটো বই আর কোনো তুষ্কৰ্ম্ম করি নাই হহাতেই এতে কথা শুনিতে হইল । J “যাহা হৌক এ তো গেল আমার আক্ষেপের কথা । কিন্তু তোমরা কী মনোদুঃখে, মৰ্ত্ত্যলোকের প্রতি কী অভিমানে তোমাদের বহুকালের পদ পরিত্যাগ করিতে প্রবৃত্ত হইয়াছ ?” তখন দেবতার কেহ বা বৈদিক, কেহ বা পৌরাণিক ভাষায়, কেহ ব। খ্রিষ্টুভ, কেহ বা অনুষ্ঠুভ ছন্দে, দস্ত্য ন মূৰ্দ্ধন্য ণ, অস্তঃস্থ ব বগীয় ব এবং তিন সয়ের উচ্চারণ রক্ষা করিয়া বলিলেন—“ভগবন, সায়ান্স নামক একটা দানব অত্যন্ত জুলুম আরম্ভ করিয়াছে । ইহার নিকটে বুত্র প্রভৃতি প্রাচীন অসুরদিগকে গণ্যই করি না ।” বৃদ্ধ পিতামহ মনে মনে হাসিলেন, ভাবিলেন, কোনো মতে মানে মানে তাহার হাত হইতে উদ্বার পাইয়াছ এখন তাহাকে গণ্য না করিলেও চলে, কিন্তু তখন যে নাকালটা হইয়াছিলে সে বেশ মনে আছে—কিন্তু, সে কথা আর উত্থাপন না করিয়া গম্ভীরভাবে চারিটি মস্তক নাড়িয়া কহিলেন, “অবশু অবশ্য !” স্থরগুরু বৃহস্পতি কহিলেন, “আৰ্য্য, শক্রটাকে ততো ডরাই না, কিন্তু মিত্রদের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হইয়াছি । এতোদিন আমরা ছিলাম মানুষের হৃদয়লোকে বিশ্বাসের স্বৰ্গধামে ; এখন তাহারা সায়ান্সের সহিত গোপনে সন্ধি স্থাপনপূর্বক সেখান হইতে নিৰ্বাসিত করিয়া আমাদিগকে মাথার খুলির এক কোণে অত্যন্ত শুষ্ক সঙ্কীর্ণ জায়গায় একটুখানি স্থান দিতে চায়। সেখানে একফোটা বিশ্বাসের অমৃত নাই। বলে, ‘দেখে, তোমাদের কতে গৌরব বাড়িল ! ছিলে অজ্ঞানান্ধ হৃদয়গহবরে, এখন উঠিলে মস্তিষ্কস্কৃতজালিত জ্ঞানালোকিত মস্তকচুড়ায় ! ভাগ্যে আমরা কয়জনা বুদ্ধিমান ছিলাম, নতুবা স্বর্গে মৰ্ত্ত্যে কোথাও তোমাদের স্থান হইত না!