পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 ব্যঙ্গকৌতুক সাক্ষাৎ নেই আর র্যাদের সঙ্গে আমার কোনে কালে কোনো পরিচয় নেই, তারা যে আজ প্রাতঃকাল থেকে আমাকে এতে ঘন ঘন খাতির ক’রচেন এর কারণ কী ? আচ্ছা মশায়, হরি বাবু নামক কোনো একটি ভদ্রলোক আমাকে কেন এমন অসময়ে স্মরণ করলেন এবং হঠাৎ এতোই অধৈৰ্য্য হ’য়ে উঠলেন ব’লতে পারেন কি ? কী ! আমি আমার স্ত্রীর বালা গড়াবার জন্যে তার কাছ থেকে নমুনাস্বরূপ গহনা এনে ফিরিয়ে দিচ্চিনে ?—দেখো, এ সম্বন্ধে আমার অনেকগুলি কথা বলবার ছিল কিন্তু আপাতত একটি ব’লেই যথেষ্ট হবে —আমি কারে কাছ থেকে কোনে গহন আনিনি এবং আমার স্ত্রীই নেই। প্রধান প্রধান কথা আর যা বলবার ছিল সে আজকের মতো মাপ করবেন—গলা শুকিয়ে তৃষ্ণায় ছাতি ফেটে মরচি, আপনি আর আধ ঘণ্টা কাল অপেক্ষা করুন, সমস্ত সমাচার অবগত হবেন । (উচ্চৈঃস্বরে ) ওরে উদয়, ওরে উদে, ওরে লক্ষ্মীছাড়া হতভাগা পাজি ছু চো ড্যাম শুয়ার ইঃ পিড়—ওরে পেট যে জলে গেল, গলা যে শুকিয়ে যায়, মাথা যে ফেটে যাচ্চে-ওরে নরাধম, কুলাঙ্গার ! আরে না মশায়—আপনাদের সম্ভাষণ ক’রীচনে । আপনার হঠাৎ চঞ্চল হবেন না । আমি পেটের জালায় মনের খেদে আমার প্রাণের বন্ধুকে ডাক্‌চি । আপনারা বস্থন ! আর ব’সতে পারচেন না ? অনেক দেরি হয়ে গেচে ? সে কথা আর আমাকে ব’লতে হবে না ! দেরি হয়েচে সন্দেহ নাই ! ত৷ হ’লে আপনাদের আর পীড়াপীড়ি ক’রে ধীরে রাখতে চাইনে ! তবে আজকের মতে আপনার আসুন ! আপনাদের সঙ্গে মিষ্টালাপে এতোক্ষণ সময়টা বেশ সুখে কেটেছিলো ! কিন্তু এখন যে কথাগুলো ব’লচেন ওগুলো কিছু অধিক পরিমাণেই ব’ল্চেন! খুব পরম বন্ধুকেও মানুষ ভালোবেসে শ্বালক সম্ভাষণ ক’ৰ্ত্তে