পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 ব্যঙ্গকৌতুক দিচ্চি বাকি পরে নিয়ে । তুমি তো ভাই তোমার গালমন্দ আমাকে ষোল আনাই চুকিয়ে দিয়েচো, তাতে বোধ করি তোমার মনট। কতকটা খোলসা হ’য়েচে, এখন আশীৰ্ব্বাদ ক’রে বাড়ি চ’লে ধাও ! ওহে বাপু, তোমার গহনা ফিরিয়ে দেওয়া সহজ নয়। যদি আমার স্ত্রী থাকতেন আর তোমার গহনা তাকে দিতুম তা হ’লেও ফিরিয়ে আন৷ শক্ত হ’তে ; আর যখন তিনি বৰ্ত্তমান নেই এবং তোমার গহনা তাকে দিইনি তখন ফিরিয়ে আনা আরো কতো কঠিন তা একটুখানি ভেবে দেখলে তুমিও হয় তো বুঝতে পারবে। তবু যদি পীড়াপীড়ি করে তা হ’লে কাজেই তোমার হরিবাবুর ওখানে আমাকে যেতে হবে, কিন্তু খাবারট আসে কি না আর একটু না দেখে যেতে পারাচনে –উঃ! আর তো পারিনে ! চন্দ্র, ওহে চন্দ্র । এখানে উদয়ের তো কোনো সম্পর্ক নেই, এখন তুমি মৃদ্ধ অস্ত গেলে আমি যে অন্ধকার দেখি ! চন্দ্র । ওহে চন্দ্রকান্ত ! এই যে এসেচে ! চন্দ্র, তুমি তো তোমার বাবুকে চেনে, সত্য ক’রে বলে। দেখি আজ কাল এবং পরশুর মধ্যে তিনি কি হোটেল থেকে ফিরবেন ? বোধ হয় ফিরবেন না ? এতোক্ষণ পরে তোমার এই কথাটি আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস হ’চ্চে। যা হোকু বডেড ক্ষিদে পেয়েচে এখন আর গাল দেবার সময় নেই, এই আধুলিটি নিয়ে যদি চট্‌ ক’রে কিছু খাবার কিনে আনো, তা’ হ’লে প্রাণ রক্ষে হয় । n লোকট। নবাবী ক’রে বেড়ায় অথচ কাজকৰ্ম্ম কিছু নেই, আমরা ভাব তুম চালায় কী ক’রে । এখন ব্যাপারটা বুঝতে পারচি ! কিন্তু প্রত্যহ এতোগুলি গাল হজম ক’রে, এতোগুলি বিল ঠেকিয়ে, এতোগুলো লোক খেদিয়ে রাখা তো কম কাণ্ড নয় ! এতে মজুরি পোষায় না, এর চেয়ে ঘানি ঠেলেও স্থখ আছে ! কী হে ! শুধু মুড়ি নিয়ে এলে? আর কিছু পাওয়া গেল না ? পয়সা কিছু ফিরেচে ?