পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(to ব্যঙ্গকৌতুক হারায় যদি তো তোর দুখান৷ হাড় আস্ত রাখবে না, তা জানিস্ ! সেদিন যে তোর হাতে দিয়ে ব’লে দিলুম আলমারীর ভিতর তুলে রেখে দিস ! পাজি বেটা, নচ্ছার বেটা ! হারামজাদ বেটা ! কোথায় আমার কাগজ হারালি বের ক’রে দে ! দে বের ক’রে ! যেখান থেকে পাস নিয়ে আয় নইলে তোকে পুতে ফেলবো বেট —ও, তাই বটে, আমার ক্যাশবাক্সের ভিতরে তুলে রেখেছিলুম। ওহে হরিভূষণ, পড়ে শুনিয়ে দাও তো, আমার আবার বাংলা পড়াটা ভালো অভ্যেস নেই –কে গা ? মতি গয়লানী বুঝি ? ত এসে এসো—আমি পায়ের ধুলো দিচ্চি—দুধের দাম নিতে এসেচে ?—এখনো শোনে নি বুঝি } নন্দ মুখুয্যেকে মা গঙ্গা কী স্বপন দিয়েচেন সে সব খবর রাখেন । বেটি, তুই আমার পুকুরের জল দুধের সঙ্গে মিশিয়ে আমাকে বিক্রি করেচিস্ —সে জলের মাহাত্ম্য জানিস্ ? কেমন ? সবার কাছে কথাটা শুনলি তে ? এখন হিসেবটা রেখে পায়ের ধূলো নিয়ে আমার খিড়কির ঘাটে চট ক’রে একটা ডুব দিয়ে আয়ুগে શ – এই এখনি যাচ্চি। বেলা হ’য়েচে সে কি আর জানিনে ? ভাত ঠাণ্ড হয়ে গেল ? তা কী ক’ৰ্ব্ব বলে ? লোকজন সব অনেক দুর থেকে একটু পায়ের ধূলোর প্রত্যাশায় এসেচে, এর কি সব নিরাশ হ’য়ে যাবে ? আচ্ছ। উঠি ওরে তিনকড়ে তুই এখানে হাজির থাকিস্— যার। আমাকে দেখতে আসবে সব বসিয়ে রাথিস্ আমি এলুম বলে । খবরদার দেখিস্ যেন কেউ দর্শন না পেয়ে ফিরে না যায় ! বলিস ভগীরথ ঠাকুরের ভোগ হ’চ্চে। বুঝলি ? আমি দুটো ভাত মুখে দিয়েই এলুম ব’লে । রেধে, তুই যে একেবারে সাধে খাড়া হ’য়ে দাড়িয়ে রইলি ? তোর কি মাথা নোয় না না কি ? তোর তো ভারি অহঙ্কার দেখচি ! বেট। তোর ভক্তির লেশমাত্র নেই ! পাজি বেটা তোকে জুতো মেরে বিদায়