পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


○ 8 ব্যঙ্গকৌতুক এ জায়গা ন ছাড়লে আমি আর বেশি দিন বাচবো না । কী করি বলে তো দাদা ! রুদুর বকৃশি ছিলুম, স্থখে ছিলুম, কোনে ল্যাঠাই ছিল না—ভগীরথ হ’য়ে কোনো দিক সামলে উঠতে পারুচিনে—আমার সোনার পুরী একেবারে শ্মশান হ’য়ে গেচে ।— আবার কাগজগুলো আজকাল আমার সঙ্গে লেগেচে—“তা’র বলে সব মিথ্যে । তাদের নামে লাইবেল আনবার জন্যে উকিলের পরামর্শ নিতে গিয়েছিলুম—উকিল ব’ল্লে, তুমিই যে ভগীরথ সেট প্রমাণ করতে গেলে সত্য যুগ থেকে সাক্ষী তলব করতে হয়—স্বয়ং ব্যাসদেবের নামে শমন জারি করতে হয় । শুনে আমার ভরসা হ’লে না। এখানকার লোকের মনেও ক্রমে সন্দেহ জন্মে গেচে ;–মতি গয়লানীর সঙ্গে একরকম ঠিক হ’য়েছিলে। আমি পদোদক দেবে। আর সে দুধ দেবে—আজ তু-দিন থেকে সে মাগী আবার তা’র হিসেব নিয়ে এসে উপস্থিত হ’য়েচে ; ভাবে গতিকে স্পষ্ট বুঝতে পারুচি টাকার বদলে আমি তা’কে পায়ের ধূলে দিতে গেলে সে-ও আমার উপরে পায়ের ধুলে ঝেড়ে যাবে, ভয়ে কিছু ব’লতে পারুচিনে । পুকুরটা তো গেচেষ্ট, আমার স্ত্রী পুত্র কন্যারাও ছেড়ে গেচে, চাকর দাসী ও পালিয়েচে, প্রতিবেশীরাও গ্রাম ছেড়ে নতুন বসতি ক’রেচে,আমার ভগীরথ নামটাও টেকে কি না সন্দেহ, কেবল কি এক ম৷ গঙ্গা আমাকে কিছুতেই ছাড়বেন না ? মা গঙ্গাকে নিয়ে কি আমার সংসার চলবে ? রাস্তায় বেরোলে আজকাল ছেলেগুলো ঠাট্ট ক’রতে আরম্ভ ক’রেচে যে রুদুর বকশির গঙ্গাপ্রাপ্তি হ’য়েচে —এই তো বিপদে পড়া গেচে । দাদা, আবার একবার তোমাকে স্বপন দেখতে হ’চ্চে দোহাই তোমার, দোহাই মা গঙ্গার, হুগলির পুলের নীচে যদি তার বাসের অস্থবিধে হয়, দেশে বড়ো বড়ে ঝিল খাল দীঘি রয়েচে, স্বচ্ছন্দে থাকৃতে পারবেন । আমার ঐ পুকুরের জল যে রকম হ’য়ে এসেচে আর দু-দিন বাদে তার মকরট। তা’র শুড়সুদ্ধ ম’রে ভেসে উঠবে ; আমার মতো ভগীরথ ঢের