পাতা:ব্যঙ্গকৌতুক - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরসিকের স্বর্গপ্রাপ্তি ( oሱ —হাতচিঠা, কি রসিদ, কি কোনো রকমের একটা নিদর্শন রাখা হয় ? শচীঠাকুরুণ বোধ করি মনে মনে রাগ করলেন—স্বৰ্গ সৃষ্টি হ’য়ে অবধি এ রকম প্রশ্ন তাকে কেউ জিজ্ঞাসা করে নি । যা পাব্লিকের জিনিষ তা’র একটা রীতিমত জবাবদিহি থাক চাই, সে বোধটা এদের কারে দেখতে পাইনে । অজস্র আছে ব’লেই কি অজস্র খরচ করতে হবে ? অামাকে বেশি দিন এখানে থাকতেই হয় তা হ’লে স্বর্গের সমস্ত বন্দোবস্ত আগাগোড় রিফৰ্ম্ম না করে আমি ন’ড়চিনে । আমি দেখুচি, গোড়ায় দরকার অ্যাজিটেশন—ঐ জিনিষট স্বর্গে একেবারেই নেই— সব দেবতাই বেশ সন্তুষ্ট হ’য়ে ব’সে অাছেন । এদের এই তেত্রিশকোটিকে একবার রীতিমত বিচলিত ক’রে তুলতে পারলে কিছু কাজ হয় । এখানকার লোকসংখ্যা দেখেই আমার মনে হ’য়েছিলো এখানে একটি বড়ে রকমের দৈনিক কিম্বা সাপ্তাহিক খবরের কাগজ বেশ চালানো যেতে পারে । অামি যদি সম্পাদক হই, তা হ’লে তার দুটি উপযুক্ত সাবএডিটার পেলেই কাজ আরম্ভ ক’রে দিতে পারি । প্রথমত নারদকে দিয়ে খুব এক চোট্‌ বিজ্ঞাপন বিলি ক’রতে হয় । তা’র পরে বিষ্ণুলোক ব্রহ্মলোক চন্দ্রলোক স্বৰ্য্যলোকে গুটিকতক নিয়মিত সংবাদদাতা নিযুক্ত করতে হয়—তাহ, এই কাজটি যদি আমি ক’রে যেতে পারি তা হ’লে স্বর্গের এ চেহার। আর থাকে না । যারা সব দেবতাদের ঘুষ দিয়ে দিয়ে স্বর্গে আসেন, প্রতি সংখ্যায় তাদের যদি একটি ক’রে সংক্ষেপ মৰ্ত্ত্যজীবনী বের করতে পারি তা হ’লে আমাদের স্বৰ্গীয় মহাত্মাদের মধ্যে একটা সেন্সেশন পড়ে যায় !—একবার ইন্দ্রের কাছে আমার প্রস্তাবগুলো পেড়ে দেখতে হবে । (ইন্দ্রের নিকট গিয়া ) দেখুন মহেন্দ্র, আপনার সঙ্গে আমার গোপনে কিছু—( অপরাগণকে দেখিয় ) ও ! আমি জানতুম না এরা সব এখানে আছেন—মাপ করবেন—আমি যাচ্চি —এ কি, শচীঠাকুরুণও