পাতা:ব্যবসায়ে বাঙালী.djvu/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্যবসায়ে বাঙালী §2 এখানে আর একটা লক্ষ্য করিবার বিষয়, বাংলাদেশের অস্কাঙ্ক ব্যবসায়ে যদিও বা দুই একজন বাঙালী থাকিতে পারে, কিন্তু উক্ত মুসলমান-সম্প্রদায় যে ব্যবসায় করে, তাহার ছন্নাংশে কোন বাঙালী ব্যবসায়ীর স্থান নাই, এমন কি, বাংলাদেশের কোন মুসলমানেরও স্থান নাই। এই সমস্ত গুজরাট কাচ্ছি মুসলমান-ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ হইতে অগাধ টাকা রোজগার করিতেছে, কিন্তু বাঙালীদের পকেটে তাহারা একটি পয়সা দিবে না। বরং নিজেদের দেশ হইতে হিন্দু কৰ্ম্মচারী আনাইয়া বাংলাদেশে রাশি রাশি অর্থ উপার্জন করিবে, তবুও বাংলাদেশের হিন্দু তো দূরের কথা, একজন মুসলমানের উপরও এই ব্যবসায়ীরা বিন্দুমাত্র সহানুভূতি দেখাইবে না। ইহাতেই বুঝা যায়, এই সমস্ত ব্যবসায়ীরা জাতি-প্রীতি অপেক্ষা দেশ-প্রীতিকেই উপরে স্থান দেন। আমাদের বাংলার মুসলমান ভ্রাতাগণকে এখানে আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করিতে চাই। হিন্দু-সম্প্রদায়ের সহিত চাকুরীর ভাগ-বাটোয়ার নিয়া তে র্তাহারা খুব লড়িতেছেন, কিন্তু র্তাহারা তাহাদের স্বজাতীয় অ-বাঙালী মুসলমানগণের মনোভাবের কোন ংবাদ রাখেন কি ? তাহারা শুনুন, এই সমস্ত ব্যবসায়ী বাংলাদেশের খরিদ্ধারের নিকট মাল বিক্রয় করিয়া তাহীদেরই কাছ হইতে vবৃত্তি নামে যে টাকাটা আদায় করিয়া রাখেন, তাহাতে সেই ফাণ্ডে নাকি ৪০ লক্ষ টাকা জমা হইয়াছে। কিন্তু বাংলার বৰ্ত্তমান দুভিক্ষের দিনে যে-সব মুসলমান ( হিন্দুদের কথাটা নাই বলিলাম ) আজ ঘর ছাড়িয়া কলিকাতার রাজপথে ও খালধারে না খাইয়া ঘুরিতেছে, তাহদের ছৰ্দ্দশা-মোচনে ঐ সমস্ত ব্যবসায়ীর উক্ত তহবিল হইতে এক কপর্দকও দান করিয়াছেন কি ? * অথচ এই সমস্ত দুর্গত লোকের রক্তশোষণ করিয়াই না আজ ,তাহার

  • ১৯৩৬ সালের কথা।