পাতা:ব্যবসায়ে বাঙালী.djvu/১৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্যবসায়ে বাঙালী , ১৭৬ আর বাঙালীর সংসারে হয়ত একজন উপার্জনক্ষম, আর দশজন তাহার মুখাপেক্ষী । ইংরাজ জাতির মেয়ের উপার্জন করিয়া স্বাধীনভাৰে জীবন যাপন করে, কাহারও মুখাপেক্ষিনী হয় না, আর বাঙালীর ঘরের অনেক বিধবারা হয় পিতার সংসারে, না হয় স্বামীর সংসারে, কাহারও গলগ্ৰহ হইয়া জীবন যাপন করে। আধুনিক স্ত্রী-শিক্ষণ বৰ্ত্তমানে স্ত্রী-শিক্ষার প্রতি সকলেরই বিশেষ আগ্রহ দেখা যাইতেছে। ইহা শুভ লক্ষণ সন্দেহ নাই। আমাদের আর্য্যনারীগণ সকলেই বিদুষী ছিলেন। খনা, লীলাবতী, গাগী, মৈত্রেয়ী-ইহাদের নাম কে না জানে ? কিন্তু বৰ্ত্তমানে যে নারী-শিক্ষা প্রবর্তিত হইয়াছে, তাহা কতটুকু সমর্থনযোগ্য ভাবিবার বিষয়। আধুনিক শিক্ষা নারীকে যেন নারীর আদর্শ হইতেই বিচু্যত করিতে চলিয়াছে। নারী পুরুষ নয়, যেমনি পুরুষও নারী নয়। নারী গৃহের শ্ৰী—সেবা দিয়া, যত্ব দিয়া, স্বভাবের মাধুরী দিয়া সংসারকে সে আনন্দ-নিকেতন করিয়া তুলে। অন্তত: বাঙ্গালী পরিবারে তা’ই। নারী এখানে একাধারে “জননী, গেহিনী।” শ্বশুব, ভাস্কর, দেবর, সকলকে লইয়া তাহার সংসার। সে কাহাকেও তুষ্ট করে সেবা দিয়া, কাহাকে তুষ্ট করে বাৎসল্য দিয়া, কাহাকে তুষ্ট করে ভক্তি দিয়া। গৃহাগত অতিথি তাহার কাছে নারায়ণ। আর আধুনিক শিক্ষিতা নারীদের মধ্যে আমরা কি দেখিতে পাই ? দেখিতে পাই, নারী আজ আর গৃহিণী নয়, তিনি স্বামীর বিলাসসঙ্গিনী । সংসারের আর পাঁচজনকে চিনিবার তাহার প্রয়োজন নাই, —চিনেনও না, স্বামী, পুত্র, কন্যা পৰ্যন্তই তাহার দায়িত্ব সীমাবদ্ধ। হিন্দু জাতির মধ্যে এতদিন ডাইভোস’ অর্থাৎ বিবাহ-বিচ্ছেদ ছিল না। সম্প্রতি মহিলা-কংগ্রেসে এ প্রস্তাবও উঠিয়াছে। বুঝা গেল