পাতা:ব্যবসায়ে বাঙালী.djvu/১৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্যবসায়ে বাঙালী $bre প্রতারণা-বিষ্ঠায় তাহারা যে সমস্ত কৌশল আবিষ্কার করিতেছেন, তাহাতে র্তাহাদের মৌলিকত্ব (originality) নাই, এমন কথা আর বলা চলে না । অবশু শিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই প্রতারক একথা বলা আমার কদাচ উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু জনকতক লোকের পাপের জন্ত যে সমস্ত জাতিই আজ প্রায়শ্চিত্ত করিতেছে ! dee=R =sఇi এখানে উপসংহার করিব । যতদিন এই জাতির মনের ভোল না বদলাইবে, ততদিন এ জাতির উন্নতি নাই। স্বামী বিবেকানন্দ বলিয়াছেন—“চালাকী দ্বারা কোন মহং কাজ হয় না ।” অতি সত্য কথা । স্বামিজীর ঐ কথাই আজ বাঙালীর জপমালা হওয়া উচিত। শিক্ষার বিরুদ্ধে আমার কোন নালিশ নাই—শিক্ষার প্রণালীর (system) বিরুদ্ধেই আমার নালিশ। দেশে সেই শিক্ষা চাই, যে শিক্ষা একটা গোটা মানুষ তৈরী করিয়া তুলে। শিক্ষা দিবে আমাদিগকে চরিত্র ; শিক্ষা দিবে আমাদিগকে মনুষ্যত্ব ; শিক্ষা দিবে আমাদিগকে শ্রদ্ধা—সত্যে শ্রদ্ধা, শিবে শ্রদ্ধা, সুন্দরে শ্রদ্ধা । বাঙ্গালীকে অর্থে এবং সম্পদে আবার বড় হইতে হইবে। কিন্তু কি উপায়ে ? ব্যবসা-বাণিজ্যই তাহার একমাত্র উপায় । কিন্তু সে জন্তও চাই শিক্ষা—এমন শিক্ষা যাহা মনকে উদার করে, জাতীয় স্বার্থে প্রেরণা জাগায়, পরস্পর সম্মিলিত হইয়া কাজ করিবার সামর্থ্য দেয়। ব্যবসায়ে সেইটিই প্রয়োজন । যতদিন বাঙালী স্বীয় স্বার্থকে জাতীয় স্বার্থের সহিত একসূত্রে গ্রথিত করিয়া লইতে না পারিবে, ততদিন এ জাতির কোনো কুলে স্থান মিলিবে না। রাজনীতি-ক্ষেত্রেই বল, আর ব্যবসায় ক্ষেত্রেই বল, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করিতে না পারিলে এ জাতির উন্নতির আশা স্থদুর-পরাহত।