পাতা:ব্যবসায়ে বাঙালী.djvu/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২ষ্ট ব্যবসায়ে বাঙালী বরং বেশী স্ববিধা । কারণ কলিকাতা হইতে টাকা সঙ্গে লইয়া, বিদেশে চুরি-ডাকাতির আশঙ্কায় তাহাজের আতঙ্কে অনিদ্রায় রাত্রি যাপন করিতে হয় । তাহারা যদি স্থানীয় ব্যবসায়িগণের নিকট হুইতে আবশ্বকাচুযায়ী মাল খরিদের টাকা প্রত্যেক দিন মোকামে বসিয়া পায়, তাহাতে ঐ সমস্ত অ-বাঙালী ব্যবসায়ীদিগেরই বেশী সুবিধা । উহার টাকা লইয়া যে হুণ্ডি লিখিয়া দেয়, ঐ হণ্ডি কলিকাতায় পৌছাইতে ৪৫ দিন দেরী হয়। উক্ত হওঁী লইয়া উহাদের অফিস কিংবা গদীতে উপস্থিত হইয়া প্রথম দিন হওঁী সাকুরাইয়া ( জানাইয়া ) আসার নিয়ম। পরের দিন উহাদের নিৰ্দ্ধারিত সময়ে উক্ত হওঁীর টাকা লইতে হয়, গড়ে পাঁচ ছয় দিন পরে টাকাটা পাওয়া যায়। বাংলার বেকার-সম্প্রদায় যদি এই সমস্ত অ-বাঙালীদের করতলগত ব্যবসাগুলির অনুসন্ধান লইয়া, ঐ সমস্ত কাজ করিতে চেষ্টা করেন, তবে ক্রমশঃ তাহারাও স্থানীয় ব্যবসায়িগণের নিকট উহাপেক্ষ বেশী সুবিধা পাইতে পারেন । বাঙালীরা ব্যবসায়ী নহে বলিয়া হয়তো প্রথম প্রথম কেহ বিশ্বাস করিয়া টাকা দিতে সাহস করিবে না । কিন্তু একবার ব্যবসায়ী নাম প্রচার হইয়া পড়িলে, তখন প্রায়ই টাকার অভাব হইবে না। মৃতদিন সে অবস্থা না আসে, ততদিন গ্রাম ও পল্লী হইতে নিজের মূলধন অনুযায়ী পাট, হলুদ প্রভৃতি খরিদ করিয়া, মফঃস্বলে মাড়োয়ারীরা যে সমস্ত মোকামে আড়ত খুলিয়া মাল খরিদ করিয়া থাকে, তাহদের নিকট উক্ত মাল বিক্রয় করিয়া কিছু কিছু লাভ হইতে পারে। কিন্তু ইহাতেও অভিজ্ঞতার বিশেষ ক্ষাবশুক। কোন প্রকার মাল কি দরে খরিদ করিলে, খরচ-বাদে কি প্রকার লাভ থাকিতে পারে, এ সম্বন্ধে যদি সবিশেষ অভিজ্ঞতা না থাকে, তবে লোকসান হইবে।