শিক্ষায় এই জেলা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলির তুলনায় অনগ্রসর। ১৯৬১ খ্রীষ্টাব্দের আদমসুমার অনুযায়ী পশ্চিম দিনাজপুরে শিক্ষিতের হার শতকরা ১৭.০৬। শতকরা ৭২.০২ লোকের মাতৃভাষা বাংলা, শতকরা ১০.১৪ লোকের মাতৃভাষা উর্দূ, শতকরা ৯.২৯ লোকের মাতৃভাষা সাঁওতালী ও শতকরা ৫.৩৮ লোকের মাতৃভাষা হিন্দী। ইস্লামপুরে উর্দূভাষী ও বালুরঘাটে সাঁওতালীভাষীর সংখ্যা বেশি।
দিনাজপুর কৃষিপ্রধান জেলা। যদিও পূর্ব দিনাজপুর হইতে পশ্চিম দিনাজপুর বহুলাংশে অনুর্বর, তথাপি পশ্চিমবঙ্গের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে উন্নত যন্ত্রপাতি ও সেচব্যবস্থায় এই জেলা প্রচুর ফসল উৎপাদন করিতেছে। জেলার প্রধান ফসল আমন ধান, ভাদই ধান, পাট, তিসি, সরিষা, আখ, ডাল, তামাক ও লংকা। পূর্বে পেঁয়াজ ও লংকা ছিল প্রধান বাণিজ্যিক ফসল, বর্তমানে পাট সেই স্থান অধিকার করিয়াছে। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, আনারস ও কলা প্রসিদ্ধ।
জেলায় বহু বড় বড় দীঘি আছে। পূর্বের হিন্দু ও মুসলমান শাসকগণ এই সকল দীঘি খনন করিয়াছিলেন। উল্লেখযোগ্য দীঘিগুলির নাম আলতাদীঘি, মাল্যনদীঘি, গৌরদীঘি, মহীপালদীঘি, ঢলদীঘি, কালাদীঘি, প্রাণসাগর ও তপনদীঘি।
পশ্চিম দিনাজপুর শিল্পে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা অনগ্রসর। ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দে রেজিষ্ট্রিকৃত ফ্যাক্টরীর সংখ্যা ছিল ৩৪, তন্মধ্যে ৩২টিই ধানকল।
পশ্চিম দিনাজপুরে রেলপথ সামান্য। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলপথ মাত্র রায়গঞ্জ হইতে রাধিকাপুর (৩২ কিলোমিটার) ও ডলখোলা হইতে ইস্লামপুর (৬৪ কিলোমিটার) পর্যন্ত বিস্তৃত। শুধু কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর শহর রেলপথ দ্বারা যুক্ত। জেলার সদর বালুরঘাটের নিকটতম রেলস্টেশন কালিয়াগঞ্জ ৯৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সড়ক পরিবহনই চলাচলের প্রধান ব্যবস্থা। ৩৪ নং জাতীয় সড়ক (কলিকাতা-শিলিগুড়ি) এই জেলার প্রধান সড়ক। নর্থ বেঙ্গল স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন সার্ভিস জেলার সর্বত্রই বাস চালাইতেছে। বালুরঘাটে একটি ছোট বিমান অবতরণক্ষেত্র আছে।
লোক-সংগীত, কথকতা, যাত্রাগান প্রভৃতি অধিবাসীদের বিশেষ প্রিয়। জেলায় ২৬টি মেলা বসে, তন্মধ্যে ইস্লামমেলা দুইমাস স্থায়ী।
জেলায় বহু স্থাপত্যকলার প্রাচীন নিদর্শন পাওয়া গিয়াছে। এই জেলায় এককালে যে বৌদ্ধধর্ম ও জৈনধর্মদ্র J. C. Sengupta, West Bengal District Gazetteers: West Dinajpur, Calcutta, 1965; B. Roy, Census of India; 1961: District Handbook: West Dinajpur, Calcutta, 1966.
পশ্চিম পাকিস্তান, পাকিস্তান দ্র।
পশ্চিমবঙ্গ ২১°৩৮′ হইতে ২৭°১০ উত্তর ও ৮৫°৫০ হইতে ৮১°৫০′ পূর্বে অবস্থিত ভারত ইউনিয়নের একটি রাজ্য। ১৯৪৭ খ্রীষ্টাব্দে ভারতবিভাগের ফলে বঙ্গদেশ দুইভাগে বিভক্ত হইয়া যায়। পশ্চিমভাগ পশ্চিমবঙ্গ নামে ভারতের মধ্যে রহিল এবং পূর্বভাগ পূর্ব পাকিস্তান নামে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হইল। ইহার পরে ১৯৫৬ খ্রীষ্টাঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের মধ্যে কিছু ভূমিসংক্রান্ত পরিবর্তন দেখা দেয়। পশ্চিমবঙ্গ উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা হইতে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। ইহার পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে রহিয়াছে বিহার ও ওড়িশা, উত্তর-পূর্ব প্রান্তে আসাম, উত্তর সীমান্তে নেপাল, ভূটান ও সিকিম এবং পূর্ব দিকে পূর্ব পাকিস্তান।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের আয়তন ৮৭৬১৭ বর্গকিলোমিটার (৩৩৮২৯ বর্গমাইল)। পশ্চিমবঙ্গে ৩টি বিভাগ ও ১৬টি জেলা আছে (‘জেলা’)।
এই রাজ্যের পশ্চিম দিকে অবস্থিত বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ও বীরভূম জেলাগুলিতে আর্কিয়ান যুগের বহু পুরাতন শিলা দেখিতে পাওয়া যায়। প্রধানতঃ গ্র্যানিট ও নীস শিলার দ্বারা এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি গঠিত। গণ্ডোয়ানা পর্যায়ের শিলাস্তর অজয় নদের উত্তরে বীরভূমের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ হইতে বর্ধমান জেলার আসানসোল ও রানীগঞ্জ সহ বাঁকুড়ার উত্তরাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ইহার মধ্যে মৃত্তিকাপ্রস্তর, বেলে পাথর ও কয়লাস্তর রহিয়াছে। উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা টার্শিয়ারি যুগে উত্থিত হইয়াছিল। এই পর্বতমালা বহু পুরাতন গ্র্যানিট ও মাইকাশিষ্ট দ্বারা গঠিত।
ইহা ছাড়া টার্শিয়ারি যুগের অর্ধরূপান্তরিত বেলে পাথর, বেলে পাথর, শেল ও মিশ্রিত শিলা দেখিতে পাওয়া যায়। পশ্চিমবঙ্গে যে বিস্তৃত সমভূমি রহিয়াছে, উহা পলিমাটির দ্বারা গঠিত। গঠনানুসারে পশ্চিমবঙ্গের সমতলের পলিমাটিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়;| ভা ৪॥৪২ | ৩২৯ |