পূর্ব পাকিস্তান ও আসামে যাইতে এই নদীগুলি খুব সুবিধাজনক। রূপনারায়ণ ও হলদী নদী সারা বৎসর নাব্য থাকে।
ইহা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ এবং পশ্চিম দিকে মোট ১০টি নাব্য খাল আছে। মেদিনীপুর খাল সর্বাপেক্ষা বড়; হিজলি খালের দৈর্ঘ্য উহার পরে। ওড়িশা খাল পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াইয়া ওড়িশার বালেশ্বর জেলার চাঁদবালি পর্যন্ত বিস্তৃত। কলিকাতার পার্শ্বে কয়েকটি খাল আছে, যথা সার্কুলার খাল, বেলিয়াঘাটা খাল ও নিউ-কাট খাল। এই খালগুলি কলিকাতার পাশ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে পরিবহনের সুবিধা দান করে। ইহা ছাড়া কলিকাতার শহরতলিতে ৪টি খাল আছে; যথা কৃষ্টপুর খাল (১৬ কিলোমিটার), ভাঙ্গর খাল (২২ কিলোমিটার), বক্সিগাইঘাটা খাল (১০ কিলোমিটার) এবং উষ্টি-নারায়ণ খাল (১৯ কিলোমিটার)।
প্রাচ্যের সর্বাপেক্ষা বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর কলিকাতার দমদমে অবস্থিত।
কলিকাতা-বন্দর হইতে পরিবহনের মাধ্যমে চা, তুলা, কার্পাসবস্ত্র, চর্ম, বনস্পতি, ঘি, কাচ, তামাক ও পাটজাত দ্রব্যের আমদানি ও রপ্তানি হয়। ১৯৫৩ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত ভারতের অন্যান্য বন্দর অপেক্ষা কলিকাতায় সর্বাপেক্ষা বেশি জাহাজের মাল ওঠা-নামা করিয়াছে; এখনও পর্যন্ত কলিকাতা বন্দর রপ্তানিতে প্রথম স্থান অধিকার করিয়া আছে। ভারতের রপ্তানির প্রায় শতকরা ৪৫ ভাগ কলিকাতা বন্দর বহন করে।
দ্র W. W. Hunter, The Annals of Rural Bengal, London, 1868; H. H. Risely, Tribes and Castes of Bengal, Calcutta, 1891; C. R. Wilson, Early Annals of the English in Bengal, vols, I & II, London, 1895 & 1900; A Mitra Census of India West Bengal, Sikkim & Chandernagor, Calcutta, 1951; Techno-Economic Survey of West Bengal, New Delhi, 1962.
দ্র নিত্যনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাশ্য’মীর, কলিকাতা, ১৯৫৮; ধীরেন্দ্রলাল ধর, কাশ্মীর, কলিকাতা, ১৯৬৪।
পহ্লব ভারতে যে পহ্লব-বংশীয় রাজারা রাজত্ব করেন, তাঁহারা বোধ হয় প্রথমে পার্থিয়া বা পারদ সাম্রাজ্যের সামন্তরাজ হিসাবে দক্ষিণ আফগানিস্তানে সীস্তান প্রদেশ শাসন করিতেন ও পরে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
মনে হয়, শক ‘রাজাতিরাজ’ অয় ও অয়িলিশ যখন উত্তর-পশ্চিম ভারতের অধীশ্বর, তখন পহ্লব-বংশীয় অর্থগ্ন (Orthagnes) ‘রাজাতিরাজ’ উপাধি গ্রহণ করিয়া সীস্তানে রাজত্ব শুরু করেন। তাঁহার অধীনে গুদুফর (Gondophares) ও গুডনের (Gudana) সহিত কান্দাহার শাসন করিতেন। অচিরে গুদুফর বোধ হয় দ্বিতীয় অয়ের রাজ্যের কিছুটা অধিকার করিয়া ‘মহারাজ ত্রাণকর্তা’ উপাধি লইয়া নিজনামে মুদ্রাংকন করেন এবং সেই সময়ে গুডন একাকী কান্দাহার শাসন করেন। কিয়ৎকালমধ্যে গুদুফর শুধু অর্থগ্নেরই নয়, দ্বিতীয় অয়ের রাজ্যেরও অধিকার লাভ করেন। এই সময়কার পার্থীয় প্রথার একটি মুদ্রালেখে তাঁহাকে ‘রাজাতিরাজ’ ও ‘একরাট’ (Autocrator) উপাধি লইতে দেখা যায়। গুডনের মৃত্যুর পর তাঁহার ভ্রাতুষ্পুত্র অবদগস (Abdagases) বোধ হয় তাহার অধীনে কান্দাহার শাসন করেন।
কোনও অলিখিত অব্দের (সম্ভবতঃ বিক্রমাদের) ১০৩ বর্ষে লিখিত মর্দান জেলার তখ্তিবাহীতে প্রাপ্ত একটি শিলালেখ হইতে জানা যায় যে, গুদুফর অন্ততঃ ২৬ বৎসর রাজত্ব করেন। খ্রীষ্টীয় কিংবদন্তিতে কথিত আছে যে, গুদুফর ও গুডন ধর্মপ্রচারক টমাস কর্তৃক খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষিত হন।
শক-পহ্লব শাসনব্যবস্থায় সময়ে সময়ে তাহাদের ‘স্ত্রতেগরা’ (Strategos, সেনাপতি) তাঁহাদের সহিত সংশ্লিষ্ট থাকিতেন। মুদ্রালেখ হইতে জানা যায় যে,