বিশেষ করিয়া, বেদান্ত সম্পর্কে কতকগুলি বক্তৃতা দিতে হইত। বক্তৃতাগুলি খণ্ডে খণ্ডে এক বা একাধিকবার প্রকাশিত হইয়াছে (১৮৯৯-১৯০৪ খ্রী)। ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসে তিনি কলিকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির সম্মানিত সদস্য মনোনীত হন। প্রাচীনপন্থী সংস্কৃত পণ্ডিতদের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম এই গৌরব লাভ করেন। ১৩১০ বঙ্গাব্দে তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের বিশিষ্ট সদস্য এবং ১৩১১-১২ বঙ্গাব্দে ইহার সহকারী সভাপতি নির্বাচিত হন। তাঁহার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে ‘বৈশেষিকসূত্রভাষ্য’ (১৮৮৭ খ্রী), ‘কাতন্ত্রচ্ছন্দঃপ্রক্রিয়া’ (১৮৯৬ খ্রী), ‘উদ্বাহচন্দ্রালোক’ (১৮৯৭ খ্রী), ‘শুদ্ধিচন্দ্রালোক’ (১৯০৩ খ্রী), ‘ঔর্ধ্বদৈহিকচন্দ্রালোক’(১৯০৬ খ্রী) ও ‘গোভিলগৃহ্যসূত্র’ (১৯০৭-১০ খ্রীঃ) উল্লেখযোগ্য। ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি তর্কালংকার মহাশয় পরলোক গমন করেন।
দ্র হরিমোহন মুখোপাধ্যায়, বঙ্গভাষার লেখক, কলিকাতা, ১৩১১ বঙ্গাব্দ; B. L. Chaudhuri, Journal and Proceedings of the Asiatic Society of Bengal, 1910.
চন্দ্রকীর্তি প্রাচীন ভারতের এক বৌদ্ধ দার্শনিক। তিব্বতীয় ঐতিহাসিকদের মতে তিনি আচার্য দিঙ্নাগের পরবর্তী যুগে, সম্ভবতঃ খ্রীষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে, দক্ষিণ ভারতে সমন্ত (?) দেশে জন্মগ্রহণ করেন। চন্দ্রগোমী ও ধর্মকীর্তির সমসাময়িক এই পণ্ডিত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী আচার্যদের অন্যতম ছিলেন। নাগার্জুনের মাধ্যমিক শূন্যবাদ ব্যাখ্যা করিয়া তিনি মূল মাধ্যমিক কারিকার ‘প্রসন্নপদা’ নামে এক টীকাগ্রন্থ রচনা করেন। তাঁহার অন্যান্য গ্রন্থ ‘শূন্যতাসপ্ততি-টীকা’ ‘যুক্তিষষ্টিকারিকা-টীকা’, ‘মধ্যমকাবতার’ ও ‘প্রদীপদ্যোতনা’ তিব্বতী ভাষায় বিদ্যমান।
দ্র M. Winternitz, History of Indian Literature of Buddhism, vol. II, Heidelberg, 1931-32.
কথিত আছে, নুসলমান আক্রমণের সময়ে এখানে চন্দ্রকেতু নামে কোনও এক রাজা রাজত্ব করিতেন।
এই অঞ্চলে প্রায় ৩ কিলোমিটারের (২ মাইল) অধিক স্থান ব্যাপিয়া প্রাচীন নগরবেষ্টনকারী প্রাচীর ও বসতির চিহ্ন আবিষ্কৃত হইয়াছে। অনতিদূরবর্তী হাদিপুর, সানপুকুর ও কালীতলা প্রভৃতি গ্রামে এখনও জলাশয় খনন, কৃষিকর্ম ও গৃহনির্মাণের জন্য ভূমিখননের ফলে প্রাচীন লাঞ্ছনময় (পাঞ্চ মার্ক্ড) মুদ্রা, মৃন্ময় মূর্তি, মৃৎ-ভাণ্ড ও মসৃণ চাকচিক্যপূর্ণ কৃষ্ণ বর্ণের মৃংকপাল প্রভৃতি পুরাবস্তু পাওয়া যায়।
১৯৫৭ খ্রীষ্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ হইতে চন্দ্রকেতুগড়ে খনন কার্য আরম্ভ হয়। বেড়াচাঁপা হইতে প্রায় অর্ধ মাইল দূরে হাড়োয়া যাইবার পথের পশ্চিম দিকে নগরবেষ্টনকারী প্রাচীন প্রাচীরের ভিতরে ধান খেতের এক স্থানে খননের ফলে ১৩ সেণ্টিমিটার (৫ ইঞ্চি), ২০ সেণ্টিমিটার (৮ ইঞ্চি) ব্যাসের এবং ০.৭৯ মিটার (২ ফুট ৭ ইঞ্চি) দৈর্ঘ্যের পোড়ামাটির নল বিশিষ্ট ভূগর্ভস্থিত পয়ঃপ্রণালী আবিষ্কৃত হইয়াছে। বর্তমানে ইহা ৭.৬২ হইতে ৯.১৪ মিটার (২৫ হইতে ৩০ ফুট) পর্যন্ত অনুসরণ করা হইয়াছে। ইহা ভূপৃষ্ঠ হইতে ৪ মিটার (প্রায় ১৩ ফুট) এবং জলময় স্তর (ওয়াটার টেব্ল্) হইতে প্রার ০.৩ মিটার (১ ফুট) নীচে আবিষ্কৃত হইয়াছে। উল্লিখিত পয়ঃপ্রণালী যে মৌর্য যুগে কিংবা কিছু পূর্বে ব্যবহৃত হইয়াছিল, স্তরবিন্যাস ও সমসাময়িক পুরাবস্তুর সাহায্যে এরূপ অনুমান অসংগত নয়। উৎখননের ফলে লাঞ্ছনময় তাম্রমুদ্রা, পোড়ামাটির নাগ দেবী, গজদন্ত-নির্মিত বলয় ও মালা, উজ্জ্বল ও মসৃণ কৃষ্ণ বর্ণের মৃৎকপাল, খর্ব নলবিশিষ্ট কৃষ্ণ বর্ণের মৃৎপাত্র (পানপাত্র?) এবং দৈনন্দিন ব্যবহারোপযোগী ক্ষুদ্র ও বৃহদাকার বিভিন্ন প্রকারের মৃৎপাত্র প্রভৃতি আবিষ্কৃত হইয়াছে। এখানকার কোনও কোনও মৃৎপাত্র বিদেশী প্রভাবের সাক্ষ্য বহন করে। মাটির ঢেলা ও মৃৎকপালের মধ্যে মৌর্য যুগের ব্রাহ্মী লিপির নিদর্শনও আবিষ্কৃত হইয়াছে।
শুঙ্গ ও পরবর্তী যুগে নির্মিত পোড়ামাটির বহু যক্ষিণী মূর্তি ও নানারূপ সীলমোহর, ছাঁচে ঢালা তাম্রমুদ্রা ও অন্যান্য পুরাবস্তুও এখানে যথেষ্ট আবিষ্কৃত হইয়াছে।
গুপ্ত যুগ হইতে এখানে ইষ্টকের দ্বারা দেবমন্দির ও