বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - তৃতীয় খণ্ড.pdf/৩২৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চর্মশিল্প
চর্যাগীত

 আমবাত: এক প্রকার অ্যালার্জি। আমবাতে শরীর চুলকাইলে লাল চাকা চাকা দাগ হইয়া ফুলিয়া ওঠে। এই রোগে ত্বকে হিস্টামিন-জাতীয় পদার্থ নির্গত হয় সেজন্য হিস্টামিন-নাশক (অ্যাণ্টিহিস্টামিন) ঔষধে ইহার দ্রুত উপশম হয়।

 সোরাইয়াসিস (Psoriasis): সংক্রামক ব্যাধি নহে। কারণ অজ্ঞাত। এই রোগে ত্বকে দাগ হয় এবং তাহা হইতে রুপালি চাকা চাকা ছাল উঠিয়া যায়। কখনও ইহার সহিত আর্থ্রাইটিস হইতে পারে। শীতে সোরাইয়াসিসের প্রবলতা বাড়ে। আলকাতরা-বর্গীয় অথবা কর্টিকোস্টেরয়েড-জাতীর মলমে ইহার সামরিক উপশন হয়।

 চর্মের ক্যান্সার: ভারতে খুব কমই দেখা যায়। অনান্য অঙ্গের ক্যান্সারের তুলনায় ইহার চিকিৎসা অনেক আশাপ্রদ এবং বহু ক্ষেত্রে রোগীকে সম্পূর্ণ নিরাময় করা যায়।

দ্র A. C. Roxburgh, Common Skin Diseases, London, 1955.

সলিলকুমার পাঁজা

চর্মশিল্প ভারতীয় বৈদিক সাহিত্যে বহুবিধ চর্মদ্রব্যের উল্লেখ পাওয়া যায়। মধ্যযুগে মার্কো পোলো ভারতীয় চর্মজাত দ্রব্যের প্রশংসা করিয়াছিলেন। ১৮৫৭ খ্রীষ্টাব্দে আধুনিক ভারতে বৃহদায়তন চর্মশিল্পের পতন ঘটে। ঐ বৎসর সরকারি উদ্যোগে মাদ্রাজ ও বাঙ্গালোরে সেনাবাহিনীর সজ্জা নির্মাণের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে দুইটি ট্যানারি প্রতিষ্ঠিত হয়। ইহার কিছুকাল পরে ‘কানপুর হারনেস অ্যাণ্ড কালারি ফ্যাক্টরি’ সরকার কর্তৃক স্থাপিত হয়। ভারতে প্রথম বেসরকারি ট্যানারি কানপুরে ‘কুপার অ্যালেন অ্যাণ্ড কোম্পানি’ কর্তৃক ১৮৮১ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। ইহার পরে ভারতীয়দের উভোগে কানপুর, বোখাই ও আগ্রায় অনেকগুলি আধুনিক ট্যানারি স্থাপিত হইয়াছে।

 গবাদি পশুর কাঁচা চামড়া (‘হাইড’) এবং ছাগাদি পশুর কাঁচা চামড়া (‘স্কিন’) রাসায়নিক প্রক্রিয়ার দ্বারা চর্মে পরিণত হয় (‘চর্ম’ দ্র)। সুতরাং চর্মশিল্পের দুই শাখা: ১. চামড়া পাকানো ২. প্রস্তুত চর্মের দ্বারা নানাবিধ দ্রব্যের নির্মাণ। দুই প্রকারে চামড়া পাকানো হয়: ১. উদ্ভিজ্জ ট্যানিং ২. ক্রোম ট্যানিং। ভারতে বর্তমান শতাব্দীর গোড়ার মাদ্রাজ সরকার কর্তৃক মাদ্রাজ শহরে প্রথম ক্রোম ট্যানারি স্থাপিত হয়। ইহার ২-৩ বৎসরের মধ্যে বেসরকারি উদ্বোগে মাদ্রাজ, কলিকাতা, বাঙ্গালোর ও কটকে কয়েকটি ক্রোম ট্যানারি গড়িয়া ওঠে।

 পৃথিবীর মধ্যে ভারত গো-মহিষচর্মের উৎপাদকরূপে দ্বিতীয় স্থান (আমেরিকার নীচে) এবং ছাগচর্মের উৎপাদকরূপে প্রথম স্থান অধিকার করে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে গো-মহিষচর্মের উৎপাদন মাংসের চাহিদার উপর নির্ভরশীল। ভারত ইহার ব্যতিক্রম। ভারতে গো-মহিষের চর্ম প্রধানতঃ ভাগাড়ে পতিত মৃত পশুর গাত্র হইতেই লব্ধ হয়। ছাগচর্মের প্রধান উৎস, নিহত পশু। ব্রিটিশ রাজত্বকালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত ভারত প্রধানতঃ কাঁচা চামড়া রপ্তানি করিত এবং বহুল পরিমাণে কারখানাজাত চর্মপ্রব্য আমদানি করিত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং বিশেষ করিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ভারতে আধুনিক চর্মশিল্পের বিকাশকে উদ্দীপিত করিয়াছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চর্মশিল্প ভারতের একটি মুখ্য শিল্প হইয়া উঠিয়াছে। রাজ্যগুলির মধ্যে মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশ এই শিল্পে অগ্রাধিকার লাভ করিয়াছে।

দ্র All India Manufacturers’ Organisation, Leather Industry in India, Bombay, 1948; DR. Gadgil, The Industrial Evolution of India, Calcutta, 1959; Annual Survey of Industries, Delhi, 1963;

অমরেন্দ্রপ্রসাদ মিত্র

চর্যাগীত বাংলা ভাষার প্রাচীনতম রূপটি যে গানগুলির মধ্যে পাওয়া গিয়াছে সে গানগুলির নাম ‘চর্যাগীত’ বা ‘চর্যাপদ’। ‘গীত’ বা ‘পদ’ অর্থে গান। ‘চর্যা’ শব্দের অর্থ কাহারও মতে আচরণীয়। শব্দটি বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মের একটি পারিভাষিক শখও বটে, আবার এক শ্রেণীর গানের নামও বটে।

 চর্যাগানগুলি নেপাল রাজদরবার গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত একখানি নামহীন পুথিতে প্রথম পাওয়া যায়। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী পুথিখানি আবিষ্কার করেন এবং ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’, সংক্ষেপে ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ নাম দিয়া প্রকাশ করেন। এই পুস্তকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চারখানি পুথি প্রকাশ করিয়াছিলেন—‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’, ‘সরোজবজ্রের দোহাকোষ’, ‘কাহ্নপাদের দোহাকোষ’ এবং ‘ডাকার্ণব’। ইহার মধ্যে ‘চর্যাচর্যবিনিশ্চয়’ নামীয় পুথিখানিতেই চর্যাগানগুলি বর্তমান। পুথির নামকরণ করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তিনি নামটির আভাস পুথির সূচনার একটি সংস্কৃত শ্লোক হইতে পাইয়াছিলেন। কেহ কেহ বলেন, পুথির যথার্থ নাম ‘চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়’।

 ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’-য় প্রকাশিত চারখানি পুথির
৩০০