বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - তৃতীয় খণ্ড.pdf/৮০৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
থেরবাদ
থ্রম্বোসিস

দেয়। যাহারা এইসব আচরণবিধি আর মানিয়া চলিতে চাহিলেন না তাঁহারা এই সম্মিলন ত্যাগ করিয়া যান এবং এক পৃথক সম্মিলন আহ্বান করেন। আরও কথিত আছে অনুষ্ঠিত দশ সহস্র ভিক্ষুর উপস্থিতিতে তাহাদের এই সম্মিলন হয় এবং ইহার নামকরণ করা হয় ‘মহাসংগীতি’। ইহাতে যোগদানকারীরা ‘মহাসাংগীতিক’ অথবা ‘মহাসাংঘিক’ নামে পরিচিত হন। এইভাবে মহাসাংঘিক ভিক্ষুরাই সর্বপ্রথম স্থবিরবাদ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া সংঘভেদ করেন। তাহারা ভিন্নমত পোষণ করিয়া নিজেদের অভিপ্রায় এবং বিশ্বাস অনুযায়ী বুদ্ধবচনের মূল সংগ্রহের বহুপ্রকার পরিবর্তন সাধন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে মহাসাংঘিকরা দ্বিধা বিভক্ত হইয়া যান এবং তাহাদের মধ্যে ‘গোকুলিক’ এবং ‘একব্বোহার’ (এক ব্যবহার)―এই দুই মতবাদের সৃষ্ট হয়। অতঃপর গোকুলিকদের মধ্যে ‘বহুস্‌সুতক’ (বহুশ্রুতক) এবং ‘পন্নতিবাদ’ অথবা ‘পঞ্‌ঞত্তিবাদ’ (প্রজ্ঞপ্তিবাদ) নামে আরও দুই মতবাদ জন্মায়। তাহার পর আবার মহাসাংঘিক হইতে ‘চেতিয়াবাদ’ (চৈত্যবাদ) নামে আর একটি মতবাদের উদ্ভব হয়। সর্বসমেত এই পাঁচটি মতবাদ মহাসাংঘিক হইতে উৎপন্ন হয়।

 মহাসাংঘিকদের দৃষ্টান্ত অনুকরণে স্থবিরবাদীদের মধ্যেও বহু মত-পার্থক্য ঘটে। স্থবিরবাদ হইতে ‘মহিংসাসক’ (মহীশাসক) এবং ‘বজ্জিপুত্তক’(বৃজিপুত্রক) নামে পুনরায় দুই ভিন্ন মতবাদের সৃষ্টি হয়। ইহার পর বৃজিপুরক চারি ভাগে বিভক্ত হইয়া ‘ধম্মুত্তরিক’ (ধর্মোত্তরিক), ‘ভদ্দযানিক’ (ভদ্রযানিক), ‘ছন্দাগারিক’ এবং ‘সম্মিতিয়’ (অথবা ‘সম্মতিয়’)—এই চারি নামে পরিচিত হয়। মহীশাসকও দ্বিধাবিভক্ত দ্বিধাবিভক্ত হইয়া ‘সব্বত্থবাদ’ অথবা ‘সব্বত্থিবাদ’ (সর্বাস্তিবাদ) এবং ‘ধম্মগুত্ত’ (ধর্মগুপ্ত অথবা ধর্মগুপ্তিক) এই দুই নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। সর্বাস্তিবাদ হইতে ‘কস্‌সপিক’ (কাশ্যপিক), কাশ্যপিক হইতে ‘সংকন্তিক’ (সংক্রান্তিক) এবং তাহা হইতে ক্রমে ‘সুত্তবাদ’ (সূত্রবাদ অথবা সৌভ্রান্তিক) উদ্ভুত হয়। সুতরাং বুদ্ধের দেহত্যাগের ২য় শতকে এই ১১টি এবং মহাসাংঘিকাদি ৬টি মিলিয়া একত্রে ১৭টি মতবাদ মূলতঃ স্থবিরবাদ হইতে জন্মলাভ করে। নানা বিরুদ্ধ মতবাদের প্রাদুর্ভাব পরবর্তী কালে এইভাবে আরও বহুসংখ্যক হওয়া সত্ত্বেও স্থবিরবাদ মহামহীরুহের ন্যায় শাখা-প্রশাখায় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়া আজও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও সিংহলে বিদ্যমান রহিয়াছে (দীপবংস, ৫ম অধ্যায়; মহাবংস, ৫ম অধ্যায়)।

দ্বিজেন্দ্রলাল বড়ুয়া

থেরীগাথা পালি দ্র

থোরিয়াম মৌলিক ধাতু। ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে বার্জেলিয়ান ইহা আবিষ্কার করেন। ইহার পারমাণবিক ওজন ২৩২.১২ আপেক্ষিক গুরুত্ব ১১.২ এবং গলনাঙ্ক ১৮৪৫° সেণ্টিগ্রেড। থোরিয়াম তেজস্ক্রিয় পদার্থ। ইহার ১২টি আইসোটোপ আছে। মোনাজ়াইট বালুকায় ইহার অক্সিজেন-ঘটিত যৌগিক বর্তমান। মোনাজ়াইট হইতে থোরিয়াম নিষ্কাশনের সময়ে হিলিয়াম গ্যাস উৎপন্ন হয়। পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের জন্য থোরিয়াম ব্যবহৃত হয় বলিয়া ভারতে ইহা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদার্থ হিসাবে পরিগণিত হইয়াছে। থোরিয়ামের অক্সিজেন ঘটিত যৌগিকের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। বাতিতে যে জাল বা ম্যান্‌ট্‌ল ব্যবহৃত হয়, তাহা প্রথমে সুতা বা রেশমের সাহায্যে প্রস্তুত করা হয়। অতঃপর তাহা থোরিয়াম-ঘটিত রাসায়নিক পদার্থের দ্রবণে ডুবাইয়া লইবার পর উচ্চ তাপে পোড়াইয়া লইতে হয়। উচ্চ তাপে ইহা শুভ্র আলোক বিকিরণ করে।

আশুতোষ মুখোপাধ্যায়

থ্রম্বোসিস জীবিতাবস্থায় রক্তবাহের মধ্যে রক্ততঞ্চনের নাম থ্রম্বোসিস। সাধারণতঃ ধমনী অথবা শিরায় থ্রম্বোসিস দেখা যায়। কোনও রক্তবাহে থ্রম্বোসিস হইয়া রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হইলে অথবা বন্ধ হইলে সেই রক্তবাহের বিভিন্ন শাখা দিয়া বেশি পরিমাণে রক্ত সঞ্চালিত হইয়া থাকে। ধমনীর ক্ষেত্রে থ্রম্বোসিসগ্রস্ত অংশের পূর্ব হইতে উদ্ভূত শাখাগুলিতে এবং শিরার ক্ষেত্রে ঐরূপ অংশের পরে উদ্ভূত শাখাগুলিতে রক্তসঞ্চালনের এরূপ বৃদ্ধি ঘটে। যে শাখাগুলি সাধারণ অবস্থায় বন্ধ থাকে এ সময়ে সেগুলিতে রক্তসঞ্চালন হইতে থাকে। এই বিকল্প রক্তসঞ্চালনে যদি দেহাংশের রক্তাভাব না হয়, তবে থ্রম্বোসিসের কোনও উপসর্গ প্রকাশ পায় না।

 ধমনীর থ্রম্বোসিসের প্রকৃত কারণ এখনও অজ্ঞাত। সাধারণত: বার্ধক্য বা অন্য কোনও কারণে ধমনীগুলির স্থিতিস্থাপকতার অভাব, অত্যধিক রক্তচাপ, রক্তে কোলেস্টেরল এবং চর্বিজাতীয় পদার্থের আধিক্য প্রভৃতিই থ্রম্বোসিসের কারণ বলিয়া ধরা হয়। শিরার প্রদাহজনিত রোগ, রক্তে তরল পদার্থের অভাব, পলিসাইথিমিয়া রোগে লোহিত রক্তকণিকার আধিক্যবশতঃ রক্তের ঘনত্ববৃদ্ধি এবং রক্তসঞ্চালনের শ্লথ গতির জন্য শিরায় থ্রম্বোসিস হইয়া থাকে।

 হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক অথবা ফুসফুসের ধমনীর থ্রম্বোসিসকে
৭৭৫