বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১০১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ওঙ্গী
ওজন পরিমাপ, ভারতীয়

 গাছের আঁশ দিয়া মেয়েরা শুধু লজ্জা নিবারণের মত একপ্রকার আচ্ছাদন করিয়া লয়। আজকাল সরকারের উপহার দেওয়া কিছু জামা-কাপড়ও স্ত্রী-পুরুষেরা ব্যবহার করে। শূকরের চর্বির সহিত শাদা বা লাল গেরিমাটি মিশাইয়া গায়ে মুখে অলংকারস্বরূপ চিত্র আঁকে।

 ইহারা বনে শূকর শিকার করিয়া এবং সমুদ্রে মাছ, কাছিম ও কয়েক প্রকার শামুক ধরিয়া খায়। তাহা ছাড়া শীতের শেষে মধু সংগ্রহ করে। মেয়েরা বনের শাকপাতা, ফলমূল কিছু সংগ্রহ করে। ১৯৬৩ খ্রীষ্টাব্দে একমাসের সংগ্রহ প্রতিদিন ওজন করিয়া দেখা গিয়াছে যে ৭৬% আমিষ, শাকশবজি ২১.৬% ও অন্যান্য খাদ্য ১.৪% ভাগ সংগৃহীত হইয়াছিল। এক-একজন দিনে ৩-৩/ সের মাংস খায়, আবার খাদ্য না মিলিলে দুই-তিন দিন অনাহারে থাকে। শিকারী যাহা সংগ্রহ করে তাহা ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলিয়া বিবেচিত হয় না। সকলে প্রয়োজন অনুসারে তাহার ভাগ পায়।

 ইহারা তীর-ধনুক বর্শা দিয়া শিকার করে। আজকাল সরকারের দেওয়া নাইলনের সুতা ও বঁড়শিও ব্যবহার করিতেছে। আগুনের ব্যবহার আছে, কিন্তু আগুন উৎপাদনের কৌশল হয়ত কোনও কারণে ইহারা ভুলিয়া গিয়াছিল। আজকাল অবশ্য লোহার কুড়াল, টিনের বালতি, অ্যালুমিনিয়ামের ডেক্‌চি সরকারের কাছে উপহার পাইয়া ব্যবহার করিতেছে।

 জন্ম, বিবাহ ও মৃতের সৎকার অনাড়ম্বর। পাত্র কন্যার হাত ধরিয়া লইয়া যায়, উভয় পরিবারে ব্যবহৃত সামগ্রীর আদান-প্রদান ঘটে ও একটি ভোজ দেওয়া হয়। সৎকারের সময়ে বাসগৃহের অনতিদূরে মৃতদেহের সমাধি হয়। কিছুদিন পরে মৃতের চোয়াল বা মুণ্ড উৎখাত করিয়া নিকটতম আত্মীয় তাহা শোকচিহ্নস্বরূপ কিছুদিন গলায় ঝুলাইয়া রাখে।

 ওঙ্গেদের ভাষা কোন্ গোষ্ঠীতে পড়িবে তাহা ভাষাবিজ্ঞানীগণ এখনও স্থির করিতে পারেন নাই। বনবিভাগ, নৃতত্ত্বসমীক্ষা বা মৎস্যবিভাগের যে সকল চাকুরিয়া ঐ দ্বীপে বাস করেন, তাঁহাদের মধ্যে কেহ কেহ ওঙ্গে ভাষা কিছু কিছু শিখিয়াছেন। ওঙ্গেদের দুই-একজন ভাঙা ভাঙা হিন্দীও বলে। ‘আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ’ দ্র।

দ্র S. Basu, ‘Economy of the Onge of the Little Andaman’, Man in India, vol. 44, no. 4, 1964.

সুহাসকুমার বিশ্বাস

ওজন পরিমাপ, ভারতীয় ভারতীয় ওজন ও পরিমাপের ইতিহাস অতিশয় প্রাচীন। প্রাচীন ভারতে ওজন ও মাপের অন্যদেশনিরপেক্ষ সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি পদ্ধতি গড়িয়া উঠিয়াছিল। ঋগ্‌বেদ, শতপথব্রাহ্মণ, তৈত্তিরীয়ব্রাহ্মণ, গোপথব্রাহ্মণ, তৈত্তিরীয়সংহিতা, কাঠকসংহিতা, নিরুক্ত ও কাত্যায়নের শ্রৌতসূত্রে তৎকালে প্রচলিত ওজনের নানা এককের উল্লেখ পাওয়া যায়। সে সময়ে ভারতে নিষক, মান, শতমান, সুবর্ণ, পাদ, কৃষ্ণল, কার্য প্রভৃতি একক প্রচলিত ছিল। ঋগ্‌বেদে (২.৩৩, ১০; ৮. ৪৭. ১৫) ও বৌদ্ধজাতকের গল্পে ১. ৩৭৫; ৬.৫৪৬—কুহকজাতক; বেস্‌সন্তরজাতক) নিষ্ক ও মানের এবং শতপথব্রাহ্মণে (১২.৭.২.১৩; ১২.৯.১.৪; ৫.৫.৫.১৬; ১৩.১.১.৪; ১৩.২.৩.২; ১৩.৪.১.১৩; ১৩. ২.৭.১৩; ১৫.৩.১.৩২), তৈত্তিরীয়সংহিতা (৩.২.৬.৩; ২.৩.১১.৫), কাত্যায়নের শ্রৌতসূত্র (১৫, ১৮১. ৩); পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী (৫. ১. ২৭) ও উহার বার্তিকে (৫.১.২৯) শতমানের উল্লেখ আছে। সুবর্ণের উল্লেখ পাওয়া যায় শতপথব্রাহ্মণ (১৩. ২. ৩. ২) ও জাতকের বিভিন্ন গল্পে (ভূরিদত্তজাতক, উদয়জাতক, শঙ্খপালজাতক)। পাদের সাক্ষাৎ মিলে নিরুক্তে (২. ৭), বৃহদারণ্যক উপনিষদ (৩.১.১) ও অষ্টাধ্যায়ীতে (৫. ১. ৩৪)। কৃষ্ণল বা রক্তিকের উল্লেখ পাওয়া যায় তৈত্তিরীয়সংহিতা (২. ৩. ২. ১ প্রভৃতি), মৈত্রায়ণীসংহিতা (২. ২. ২.১), কাঠকসংহিতা (১১. ৪.), তৈত্তিরীয়ব্রাহ্মণ (১. ৩. ৬.৭), অনুপদসূত্র (৯. ৬) ও মনুসংহিতায় (৮.১৩৪)। বৌদ্ধজাতকের গল্পে ও মনুসংহিতায় (৮. ১৩৬) কার্ষাপণ বা কার্যের উল্লেখ আছে। কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র হইতে দেখা যায় তৎকালে রৌপ্য ও তাম্র—এই দ্বিধাতুভিত্তিক ওজনপদ্ধতি এই দেশে প্রচলিত ছিল। তাহা ছাড়া, মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্যধর্মসূত্র ও নারদস্মৃতিতে ওজন ও মাপের বিস্তৃত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে। এই সমস্ত হইতে দেখিতে পাওয়া যায়, একটি সূক্ষ্ম ও সুসংবদ্ধ ওজনপদ্ধতি বহু পূর্ব হইতেই ভারতবর্ষে বিদ্যমান ছিল।

 মনুসংহিতায় (৮.১৩১-৭) ওজনের নিম্নোক্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে:

৮ ত্রসরেণুতে (রৌদ্রে পরিদৃশ্যমান বায়ুতে ভাসমান ধুলিকণা) ১ লিয়্যা (পোস্তদানা), ৩ লিয্যাতে ১ রাজসর্ষপ, ৩ রাজসর্ষপে ১ গৌরসর্ষপ, ৬ গৌরদর্ষপে ১ যব, ৩ যবে ১ কৃষ্ণল বা রক্তিক (রতি, গুঞ্জাফল)।

৮২