বিস্তার করিয়াছিল। কালক্রমে তিনি রেনেসাঁসের অন্যতম আদর্শরূপে গৃহীত হন।
ওমর ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা (৬৩৪-৪৪ খ্রী)। কঠোর ন্যায়পরায়ণ ও দূরদর্শী এই খলিফা তাঁহার সম্প্রদায়ের মনুষ্যচরিত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত ছিলেন। দুরন্ত বর্বর আরবদিগের নেতা হওয়ার যোগ্যতা তাঁহার ছিল। তিনি দৃঢ়হস্তে শাসনকার্য চালাইয়াছিলেন এবং বেদুইন সম্প্রদায় ও অনুন্নত জাতির মধ্য হইতে দুর্নীতি দমনে দৃঢ়সংকল্প ছিলেন। তিনি আঞ্চলিক শাসনের নির্দিষ্ট নিয়মাবলী প্রবর্তন করেন এবং রাজস্ব ও অর্থবিভাগ পরিচালনার জন্য ‘দিওয়ান’ স্থাপিত করেন। ইসলামের আদর্শ খলিফা ওমর অত্যন্ত সাধারণভাবে জীবনযাপন করিতেন এবং তাঁহার নগণ্যতম প্রজাও সহজেই তাঁহার সাক্ষাৎলাভ করিতে পারিত। তাঁহার প্রজাদের প্রকৃত অবস্থা অবহিত হওয়ার জন্য তিনি গভীর নিশীথে প্রহরীব্যতিরেকে একাকী নগর পরিদর্শন করিতেন।
দ্র A. J. Wensinck, A Handbook of Early Muhammadan Tradition, Leyden, 1927.
ওমর খৈয়াম (আনুমানিক ১০৫০-১১২৩ খ্রী), পুরা নাম গিয়াসুদ্দীন আবুল্-ফতহ্ ওমর বিন ইব্রাহিম অল্-খৈয়ামী। পারস্য দেশের খোরাসান অঞ্চলের অন্তর্গত নীশাপুরে জন্ম। জীবৎকালে ইহার খ্যাতি ছিল গণিতজ্ঞ হিসাবেই। বীজগণিত সম্পর্কে ইঁহার আরবীতে রচিত সন্দর্ভ তৎকালীন বিদগ্ধ সমাজে বিশেষভাবে গৃহীত হইয়াছিল। সুলতান মালিক শাহের রাজত্বকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানে ব্যুৎপত্তি লাভ করিয়া ইনি কালক্রমে রাজসভায় জ্যোতির্বিদের পদ প্রাপ্ত হন। অপর সাতজন জ্যোতির্বিজ্ঞানীর সহায়তায় পারসীক পঞ্জিকা সংস্কারেও ইনি অন্যতম ভূমিকা গ্রহণ করিয়াছিলেন। তাঁহাদের সংস্কার অনুসারে ১০৭৯ খ্রীষ্টাব্দ হইতে তারিখ-ই-মালিকশাহী বা জালালী অব্দ প্রচলিত হয়।
বর্তমান কালে অবশ্য ওমর খৈয়ামের প্রধান পরিচয় কবি হিসাবে। তাঁহার কবিপরিচয় সমকালীন স্বদেশে বিশেষ স্বীকৃতি পায় নাই; পরবর্তী কালে এড্ওয়ার্ড ফিট্জ়েরাল্ডের (১৮০৯-৮৩ খ্রী) ইংরেজী মর্মানুবাদের (১৮৫৯ খ্রী) সহায়তায় তৎকালীন ইওরোপে তাহা অসামান্য জনপ্রিয়তা অর্জন করিয়াছে। পৃথিবীর প্রায়দ্র Edward Fitzerald, tr. The Rubáiyát of Omar Khayyám, New York.
ওম্যালি, লিয়ুইস সিড্নি স্টিউয়ার্ড (১৮৭৪-১৯৪১ খ্রী) জেলা গেজেটিয়ারের সংকলক। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্র ওম্যালি ১৮৯৮ খ্রীষ্টাব্দে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন। বাংলা প্রদেশের গেজেটিয়ার সংকলনের সম্পাদক (১৯০৫-৯ খ্রী), জনগণনার অধীক্ষক (১৯১০-১২ খ্রী), বিভাগীয় সচিব (১৯১৬-২১ খ্রী) ইত্যাদি দায়িত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত থাকিয়া ওম্যালি ১৯২৪ খ্রীষ্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন।
গেজেটিয়ার সংকলন তাঁহার শ্রেষ্ঠ কীর্তি। তিনি ১৯০৬-২৫ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে সাহাবাদ, কটক, হুগলি, যশোহর, চব্বিশ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পাবনা, ফরিদপুর প্রভৃতি ৩৩টি জেলার গেজেটিয়ার সম্পাদন ও সংকলন করেন।
ভারতীয় সমাজ সম্পর্কে গভীরতম বোধের অভাব, ইতিহাস বর্ণনায় কিংবদন্তির উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব প্রদান প্রভৃতি হয়ত তাঁহার রচনার ত্রুটি, কিন্তু ইহা সত্ত্বেও জেলাগুলির সর্বাঙ্গীণ পরিচিতি সংবলিত বৃত্তান্ত হিসাবে ওম্যালির গেজেটিয়ার আজিও বহু ক্ষেত্রে একমাত্র নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ। বস্তুতঃ গেজেটিয়ার প্রণয়নের ব্যাপারে তাঁহার অবলম্বিত রীতি এখনও আদর্শ হিসাবে অনুসৃত হইতেছে। বাংলা প্রদেশের জনগণনার (১৯১১ খ্রী) বিবরণ রচনা তাঁহার আর একটি স্মরণীয় কাজ। ওম্যালি প্রণীত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ‘ইণ্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস ১৬০১-১৯৩০’ (১৯৩১ খ্রী), ‘ইণ্ডিয়ান কাস্ট কাস্টম্স’ (১৯৩২ খ্রী), ‘ইণ্ডিয়ান সোশ্যাল হেরিটেজ’ (১৯৩৪ খ্রী), ‘পপুলার হিন্দুইজ্ম’ (১৯৩৫ খ্রী) উল্লেখযোগ্য (‘গেজেটিয়ার’ দ্র)।
ওয়র্শ চুক্তি পোল্যাণ্ডের রাজধানী ওয়শ (ভার্শাভা)
১০০