বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৩৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ওলিম্পিক ক্রীড়া
ওল্ডহ্যাম, রিচার্ড ডিক্সন

হইতে পারে উপলব্ধি করিয়া কুবেয়ার্‌ত্যাঁ। ১৮৯৪ খ্রীষ্টাব্দে ওলিম্পিক ক্রীড়া পুনঃপ্রতিষ্ঠাকল্পে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের চিন্তাশীল ব্যক্তিগণের সহযোগিতায় পারী নগরে একটি সম্মিলন আহ্বান করেন এবং সেই সম্মিলনে সিদ্ধান্ত হয় যে গ্রীসের রাজধানী অ্যাথেন্স শহরে আধুনিক কালের প্রথম ওলিম্পিক ক্রীড়া-উৎসবের অনুষ্ঠান হইবে। এই সিদ্ধান্ত অনুসারে আধুনিক কালের নবপর্যায়ের ওলিম্পিক ক্রীড়ার উৎসব-আসর বসে ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দে গ্রীসের অ্যাথেন্স শহরে এবং ইহাতে ১২টি দেশের প্রতিনিধি যোগদান করেন। পূর্বরীতি এবং ওলিম্পিয়াদ শব্দের অর্থের সহিত সংগতি রাখিয়া অতঃপর প্রতি চার বৎসরের ব্যবধানে ওলিম্পিক ক্রীড়ার অনুষ্ঠান সংঘটিত হইতে থাকে। কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের জন্য ১৯১৬, ১৯৪০ এবং ১৯৪৪ খ্রীষ্টাব্দে নির্দিষ্ট ওলিম্পিক উৎসব সংঘটিত হইতে পারে নাই।

 ওলিম্পিক ক্রীড়ানুষ্ঠানের লোকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাইতে থাকায় ক্রমশঃ অধিক সংখ্যক দেশ এই বিশ্বজনীন ক্রীড়াউৎসবে যোগদান করিতেছে। নবপর্যায় ওলিম্পিকের প্রথম অনুষ্ঠানক্ষেত্র অ্যাথেন্সে উপস্থিত ছিল মাত্র বারটি দেশ, আর ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দে রোম ওলিম্পিকে যোগ দিয়াছিল চুরাশিটি দেশ।

 নবপর্যায়ের ওলিম্পিক ক্রীড়াসমূহ অনুষ্ঠিত হইয়াছে নিম্নোক্ত স্থানসমূহে: অ্যাথেন্স ১৮৯৬, পারী ১৯০০, সেণ্ট লুইস ১৯০৪, লণ্ডন ১৯০৮, স্টকহোল্‌ম ১৯১২, অ্যাণ্টওয়ার্প ১৯২০, পারী ১৯২৪, আমস্টার্‌ডাম ১৯২৮, লস্ এঞ্জেল্‌স ১৯৩২, বার্লিন ১৯৩৬, লণ্ডন ১৯৪৮, হেলসিংকি ১৯৫২, মেলবোর্ন ১৯৫৬, রোম ১৯৬০, টোকিও ১৯৬৪। ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে পারীতে অনুষ্ঠিত নবপর্যায়ের ওলিম্পিক অধিবেশন হইতে নারীদের জন্য কয়েকটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা হইয়াছে এবং ক্রমশঃ অধিক সংখ্যায় তাঁহারা ইহাতে যোগদান করিতেছেন।

 ভারতবর্ষ কোন্ ওলিম্পিকে প্রথম অংশ গ্রহণ করিয়াছিল সে বিষয়ে মতবিরোধ আছে। ১৯০০ খ্রীষ্টাব্দে জি. এম. প্রিচার্ড নামে এক ব্যক্তি, ভারতীয় হিসাবে পারীর অনুষ্ঠানে যোগদান করিয়া দুইশত মিটার দৌড় এবং দুইশত মিটার হার্ডল্‌স, উভয় প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ওলিম্পিকের খাতায় প্রিচার্ড ভারতীয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করিয়াছেন। তবে সরকারিভাবে বলা হয় যে ভারত প্রথম ওলিম্পিকে যোগদান করে ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে। ১৯২৮ খ্রীষ্টাব্দে আমস্টার্‌ডামএর অনুষ্ঠানে ভারতীয় হকি দল প্রথম যোগদান করে এবং সেই হইতে ১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ওলিম্পিক
পর্যন্ত প্রতিবারই ভারতীয় হকি দল স্বর্ণপদক লাভ করিয়াছে। বিশ্বের খেলাধুলার ইতিহাসে কোনও একটি খেলায় একটি দেশের উপর্যুপরি ছয়বার বিজয়ী হইবার দ্বিতীয় নজির আর নাই। হকি প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দল পুনর্বার বিজয়ী হয় ১৯৬৪ খ্রীষ্টাব্দে। ইহা ব্যতিরেকে ভারতীয় মল্লবীর যাদব একবার (১৯৫২ খ্রী) ব্রোঞ্জ পদক লাভ করিয়াছিলেন। অপর কোনও প্রতিযোগিতায় ভারতবর্ষ এ পর্যন্ত কোনও পদক লাভ করিতে পারে নাই; যদিও দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর অর্থাৎ ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দ হইতে প্রত্যেক ওলিম্পিকেই ভারতবর্ষ ব্যাপকভাবে অংশ গ্রহণ করিয়া আসিতেছে।

দ্র J. Kieran & A. Daley, The Story of the Olympic Games, 776 B. C.-1956 A. D., Philadelphia, 1957.

 অজয় বসু

ওল্ডহ্যাম, টমাস (১৮১৬-৭৮ খ্রী) ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের (জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া) প্রথম কর্ণধার। ৩৫ বৎসর বয়সে ১৮৫১ খ্রীষ্টাব্দে তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত হন এবং ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। ভারতে আগমনের পূর্বে তিনি ডাবলিনে ভূতত্ত্বের অধ্যাপক ছিলেন এবং তখনই রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হইয়াছিলেন। প্রথমে তিনি ছিলেন ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের একক অফিসার, কিন্তু তাঁহার চেষ্টায় অফিসারের সংখ্যা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাইয়া ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দে ১৭ জনে দাঁড়ায়। ওল্ডহ্যামেরই নেতৃত্বে ভারতে ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানকার্যের গোড়াপত্তন হয়। তাঁহার সময়ে কয়লার ব্যাপক অনুসন্ধান, গণ্ডোয়ানা শিলাশ্রেণীর আবিষ্কার এবং হিমালয় অঞ্চল, বাংলা, বিহার ও ওড়িশার আর্কিয়ান অঞ্চল এবং আসামের খাসি পাহাড় অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি নিজেই খাসি পাহাড় ও দামোদর উপত্যকা অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক কাজ আরম্ভ করিয়াছিলেন। তাঁহার নেতৃত্বে ভারতে ভূমিকম্প সম্বন্ধে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান আরম্ভ হয় এবং প্রথম সর্বভারতীয় ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র তৈয়ারি হয়। তিনি পাঁচবার (১৮৬৮, -৬৯, -৭২, -৭৩ ও ১৮৭৬ খ্রীষ্টাব্দ) এশিয়াটিক সোসাইটির সভাপতির পদ অলংকৃত করেন।

অজিতকুমার সাহা
ওল্ডহ্যাম, রিচার্ড ডিক্সন (১৮৫৮-১৯৩৬ খ্রী) কৃতী ভূতত্ত্ববিদ। ১৮৭৯ খ্রীষ্টাব্দ হইতে ১৯০৪ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত

১১৬