বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ওল্ডেনবুর্গ, সের্গেই ফেদোরোভিচ
ওল্ডেনবুর্গ, হেরমান

ভারতীয় ভূতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁহার পিতা টমাস ওল্ডহ্যাম ছিলেন উক্ত সর্বেক্ষণের প্রথম অধিকর্তা। ভারতের বহু অঞ্চলে তিনি দক্ষতার সহিত ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানকার্য চালান। ১৮৯৭ খ্রীষ্টাদের আসাম-বিধ্বংসী ভূমিকম্প সম্পর্কে তাঁহার মৌলিক ও চিন্তা-সমৃদ্ধ বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ ‘গ্রেট আর্থকোয়েক অফ টুয়েল্‌ফ্‌থ জুন এইটিন নাইটি সেভেন’ (১৯০০ খ্রী) একটি প্রামাণিক কাজ। তিনি ভূকম্পনতত্ত্বের কয়েকটি মৌলিক তথ্যের আবিষ্কর্তা। তিনিই প্রথম (১৯০০ খ্রী) প্রমাণ করেন যে তিন ধরনের ভূকম্পন তরঙ্গ বিভিন্ন বেগে ও বিভিন্ন পথে সঞ্চারিত হয় এবং পৃথিবীর কেন্দ্রভাগের ভৌত গুণ বহিরংশের ভৌত গুণ হইতে পৃথক। তাঁহার হিসাবমত কেন্দ্রস্থ ঐ অঞ্চলের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ। রিচার্ড ওল্ডহ্যাম প্রণীত ভারতীয় ভূবিদ্যাবিষয়ক গ্রন্থ ‘ম্যানুয়াল অফ দি জিওলজি অফ ইণ্ডিয়া’ (২য় সংস্করণ, ১৮৯৩ খ্রী) বহুদিন পর্যন্ত একটি প্রামাণিক রচনা হিসাবে সমাদৃত হইয়াছিল।

 তাঁহার অন্যান্য রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘বিবলিওগ্রাফি অফ ইণ্ডিয়ান জিওলজি’ (১৮৮৮ খ্রী)। জিওলজি সোসাইটি (লণ্ডন) তাঁহাকে ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে লায়াল মেডেলে ভূষিত করেন। ১৯২০-১ খ্রীষ্টাব্দে তিনি এই সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। ইহা ভিন্ন তিনি রয়্যাল সোসাইটির ফেলো (১৯১১ খ্রী), রয়্যাল জিওগ্রাফিক্যাল সোসাইটির ফেলো, ইম্পিরিয়াল কলেজ অফ সায়ান্স-এর অনারারি ফেলো এবং ইন্‌স্টিটিউট অফ মাইনিং অ্যাণ্ড মেটালার্জির সদস্য ছিলেন। মৃত্যু ১৫ জুলাই ১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দ।

দ্র A. M. Heron, ‘Richard Dixon Oldham’, Records of the Geological Survey of India, vol. LXI, part 4, 1937.

অজিতকুমার সাহা

ওল্ডেনবুর্গ, সের্গেই ফেদোরোভিচ (১৮৬৩-১৯৩৪ খ্রী) প্রসিদ্ধ ভারততত্ত্ববিদ্‌ রুশদেশের ত্রান্‌স-বাইতালাইন নামক স্থানে জন্ম। সেণ্ট পেটস্‌বুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ইনি ভারতবিদ্যার প্রতি আকৃষ্ট হন। সেখানকার শিক্ষা সমাপনান্তে তিন বৎসর কাল ইনি জার্মানি, ফ্রান্স ও ইংল্যাণ্ডের বিভিন্ন পণ্ডিতের নিকট সংস্কৃত ও পালি ভাষা এবং বৌদ্ধ ধর্ম সম্বন্ধে শিক্ষা লাভ করেন। স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পরে তাঁহাকে সেণ্ট পেটস্‌বুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃতের অধ্যাপক নিযুক্ত করা হয়।

 ১৮৯৭ খ্রীষ্টাঙ্গে রুশ সাম্রাজ্যের বিজ্ঞান-পরিষদের পৃষ্ঠ
পোষকতায় ইনি ‘বিব্‌লিওথেকা বুদ্ধিকা’ গ্রন্থমালার প্রবর্তন করেন। ১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত এই গ্রন্থমালার অন্তর্ভুক্ত প্রাচীন বৌদ্ধগ্রন্থ ও আলোচনামূলক নিবন্ধ ৩০টি বৃহৎ খণ্ডে প্রকাশিত হয়। ১৯১৬ খ্রীষ্টাব্দে তিনি উক্ত পরিষদের ‘এশিয়াটিক মিউজিয়াম’ শাখার অধ্যক্ষ পদ লাভ করেন।

 মধ্য তুর্কিস্তান, মোঙ্গোলিয়া ও তিব্বতে প্রত্নসম্পদ ও পুথি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ১৯০৬-৭ খ্রীষ্টাব্দে যে রুশ অভিযান প্রেরিত হয়, ওল্ডেনবুর্গের উপরেই তাহার পরিচালনভার ন্যস্ত ছিল। ১৯০৯-১০ খ্রীষ্টাব্দে ওল্ডেনবুর্গ দ্বিতীয় অভিযাত্রী দলের নেতৃত্ব করেন। এই দুই অভিযানের ফলে ভারতবিদ্যা সংক্রান্ত বহু প্রত্নসম্পদ ও প্রাচীন পুথি রুশ পণ্ডিতদের হস্তগত হয়। ১৯৩০ খ্রীষ্টাব্দে এই সংগ্রহ ওল্ডেনবুর্গ-সংগঠিত ‘ইউ. এস. এস. আর. ওরিয়েণ্টাল ইন্‌স্টিটিউটে’ স্থানাস্তরিত হয়।

 বৌদ্ধ শিল্পকলা সম্বন্ধে তাঁহার রচিত একটি পুস্তক ইংরেজীতে অনূদিত হইয়া প্রকাশিত হইয়াছে (নোট্‌স অন বুটিস্ট আর্ট, ১৮৯৭ খ্রী)। ওল্ডেনবুর্গের বিদ্যাবত্তা ও কর্মক্ষমতা রুশ দেশে ভারতবিদ্যা প্রচারের সংগঠনমূলক কাজে বিশেষভাবে নিয়োজিত হইয়াছিল। রুশভাষায় ভারতবিদ্যা বিষয়ে তিনি অনেকগুলি পুস্তক ও নিবন্ধ রচনা করেন।

 ১৯১৩ খ্রীষ্টাব্দে ওল্ডেনবুর্গ তিব্বতীয় স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী সেণ্ট পেটস্‌বুর্গে (অধুনা লেনিনগ্রাদ) একটি বৌদ্ধ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

গৌরাঙ্গগোপাল সেনগুপ্ত

ওল্ডেনবুর্গ, হেরমান (১৮৫৪-১৯২০ খ্রী) ভারততত্ত্ববিদ্। ইনি বৈদিক সাহিত্য, বৌদ্ধশাস্ত্র, সংস্কৃত ও পালি ভাষা সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ ছিলেন। জার্মানির অন্তর্গত হামবুর্ক-এ জন্ম। শিক্ষাশেষে ইনি যথাক্রমে কীল্‌ ও গ্যোটিন্‌গেন বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপনা করেন। মৃত্যু ১৯২০ খ্রীষ্টাব্দে।

 জার্মান ভাষায় উপনিষদ্, বৈদিক ধর্ম ও বৌদ্ধ ধর্ম সম্বন্ধে ইহার রচিত পুস্তকগুলি প্রামাণিক গ্রন্থরূপে বিদ্বৎসমাজে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। মাক্স ম্যুলর সম্পাদিত ‘সেক্রেড বুক্‌স অফ দি ঈস্ট’ গ্রন্থমালার জন্য ‘বিনয় পিটক’, ‘গৃহ্যসূত্র’ (শাঙ্খায়ন, আশ্বলায়ন, পারস্কর ও খাদির; গোভিল, হিরণ্যকেশী ও আপস্তম্ব) ও বৈদিক স্তোত্র (ঋগ্‌বেদ) ইনি ইংরেজী ভাষায় অনুবাদ করেন। ‘বিনয়পিটক’ ও ‘দীপবংস’ নামে পালিভাষা-নিবন্ধ সুবিখ্যাত

১১৭