বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ওশিয়ানিয়া
ওষধিশালা

সংগ্রহ করায় সামুদ্রিক সম্পদের উপর নির্ভর করিতে হইত না। অনেকেই ধানের পরিবর্তে কচু উৎপাদন করিত। মেলানেশিয়ায় নিউগিনির অধিবাসীদের প্রধান খাদ্য ছিল পামজাতীয় গাছের দানা (sago) অথবা উচ্চ শীতল ভূমিতে উৎপন্ন কুমড়া। লাভাগঠিত উর্বর দ্বীপগুলিতে কোথাও কচু, কোথাও বা খাম আলু উৎপন্ন হইত। কিন্তু প্রতি দ্বীপে নারিকেলই প্রধান ছিল। নিম্ন প্রবালদ্বীপে পানীয় ও খাদ্যরূপে নারিকেল প্রচলিত ছিল। নারিকেল হইতে তেল, মালা দিয়া পাত্র, ঐ গাছের গুঁড়ি দিয়া নৌকা, কাঠ দিয়া গৃহ নির্মাণ, পাতা দিয়া ছাউনি তৈয়ারি হইত। সমস্ত দ্বীপের লোকেরা ক্যানো তৈয়ারি করিতে ও সমুদ্রে যাতায়াত করিতে দক্ষ ছিল। বহু যুগ ধরিয়া বসবাস করা সত্ত্বেও তাহাদের সহজ জীবনযাত্রা সমুদ্র বা বনজ কোনও সম্পদেরই বিশেষ কোনও ক্ষতি করে নাই। জুম প্রথায় চাষও জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করিয়াছে।

 ১৫২১ খ্রীষ্টাব্দে ম্যাগেলন প্রথম যখন প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে আসেন তখন সেখানে এইরূপ সহজ জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত বিভিন্ন জাতি বাস করিত।

 ম্যাগেলনের আসার পর ইওরোপীয়েরা পরপর তিনটি যুগে তিনটি কারণে প্রশান্ত মহাসাগরে আসিতে থাকে। ষোড়শ শতাব্দীতে স্বর্ণ আবিষ্কার ও ধর্ম প্রচারের নেশাই স্পেন দেশের লোকেদের মধ্য আমেরিকার ভিতর দিয়া ম্যাগেলন প্রণালী পার করিয়া প্রশান্ত মহাসাগরে টানিয়া আনিয়াছিল। ইহার ফলেই ক্যারোলাইনা, হাওয়াই, সলোমন প্রভৃতি দ্বীপ আবিষ্কৃত হয়। সপ্তম শতাব্দী ছিল ইওরোপীয়দের আবিষ্কারের যুগ। ওলন্দাজ টাসমান এই সময়ে টাসমেনিয়া, নিউজিল্যাণ্ড, টঙ্গা, ফিজি প্রভৃতি দ্বীপ আবিষ্কার করেন। সপ্তদশ শতাব্দীতে বহুবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সময় নাবিকগণকে বিরোধীদলের জাহাজলুণ্ঠনে উৎসাহ দেওয়া হইত। যুদ্ধসমাপ্তির পরে বহুদিন পর্যন্ত নাবিকগণ স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া বিরোধীদলের অধিকৃত স্থান লুণ্ঠনের চেষ্টা করে। এই লুণ্ঠনের প্রচেষ্টায় প্রশান্ত মহাসাগরে নূতন নূতন দ্বীপ, নূতন নূতন সমুদ্রপথ আবিষ্কৃত হয়। ইংরেজ ভূপর্যটকদের মধ্যে ক্যাপটেন কুকের নাম উল্লেখ যোগ্য। সুদক্ষ নাবিক ও মানচিত্রবিদ ক্যাপটেন কুকের তিনবার ভ্রমণের ফলে (১৭২৮-৭৯ খ্রী) হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পশ্চিম অংশ সহ বহু দ্বীপ আবিষ্কৃত হয় ও মানচিত্রে সঠিকভাবে সন্নিবেশিত হয়।

 এই সময়ে বিভিন্ন দেশের ভূপর্যটকগণ নানাভাবে প্রশান্ত মহাসাগরকে জানিবার জন্য এখানে আসেন এবং নিউজিল্যাণ্ড, হাওয়াই প্রভৃতি দ্বীপে উপনিবেশ স্থাপন
করেন। ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দের পর হইতে প্রশান্ত মহাসাগরে নানা দেশের প্রচারকগণও এ দেশে নিজ নিজ ধর্ম প্রচার করিতে আসেন।

 ম্যাগেলন আসিবার ৪৫০ বৎসরের মধ্যে প্রশাস্ত মহাসাগরের দ্বীপসমূহে যে পরিবর্তন ঘটিয়াছে যুগ যুগ ধরিয়া আদিবাসীরা সেখানে বাস করিলেও সেই পরিবর্তন আসে নাই। আবিষ্কারের নেশা, ব্যবসায়ের উদ্দেশ্য, উপনিবেশ গঠনের অভিপ্রায় অথবা ধর্মপ্রচার—যে ভাবেই তাহারা এই দ্বীপগুলিতে আসুক না কেন, তাহাদের আগমনে সমস্ত আদিবাসীদের জীবনযাত্রায় বিপর্যয় ঘটিয়াছে। ইওরোপীয়দের আগমনে অনেক স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় ও বাণিজ্যের উন্নতিসাধন হয় কিন্তু প্রত্যেক স্থানেই আদিবাসীদের নূতন নূতন সমস্যার সম্মুখীন হইতে হয়। স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনের পরিবর্তে দূর দেশের সঙ্গে ব্যবসায়-বাণিজ্যের সূত্রে আবদ্ধ হইয়া তাহাদের জীবন ও সংস্কৃতিতে বহু পরিবর্তন সাধিত হইয়াছে। অনেক ক্ষেত্রে উপনিবেশ বা বাগিচায় শ্রমিক হিসাবে কাজ করিতে বাধ্য হইয়া তাহাদের স্বতন্ত্র সত্তা লোপ পাইয়াছে। মিশনারিদের কার্যকলাপ তাহাদের পক্ষে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুখপ্রদ হয় নাই।

 বর্তমান যুগে সামরিক ঘাঁটি গড়িয়া উঠিবার জন্যও ইহাদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ঘটিতেছে।

 কিন্তু এই বিস্তীর্ণ মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রকৃতির সহিত আদিবাসীদের এরূপ ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ এবং তাহার এত বৈচিত্র্য যে ইহাদের সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য বহুদিন ধরিয়া থাকিয়া যাইবে বলিয়া মনে হয়।

দ্র A. C. Haddon, The Wanderings of Peoples, Cambridge, 1919; Kenneth B. Cumberland, South West Pacific, London, 1956.

ঊষা সেন

ওষধিশালা সংরক্ষিত উদ্ভিদের সংগ্রহকেই ওষধিশালা (হার্বেরিয়াম) বলা হয়। বৃহদাকার শ্যাওলা, ফার্ন, সপুষ্পক উদ্ভিদ প্রভৃতিকে ইহাদের স্বাভাবিক নিবাস হইতে সংগ্রহ করিয়া ব্লটিং পেপার জাতীয় শোষক কাগজে ছড়াইয়া রাখিলে জলীয় পদার্থ নিষ্কাষিত হয়। এই শোষক কাগজে রক্ষিত উদ্ভিদ-অংশকে ‘ল্যাটিস প্রেস’-এর সাহায্যে চাপ দিয়া অল্প সময়ে শুষ্ক করা হইয়া থাকে। এইভাবে শুকানো উদ্ভিদবিশেষ অথবা ক্ষুদ্রায়তন একাধিক উদ্ভিদ শক্ত কাগজে গাঁথিয়া রাখা হয় এবং একটি নির্দেশ-সূচিতে উদ্ভিদের নাম এবং অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। কখনও বা পাম-

 ভা ২॥১৬
১২১