বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ঔৎসুক্য
ঔদস্থিতিবিদ্যা

একটি ক্ষুদ্র পিঢ়া দেউল এবং আয়ত আসনবিশিষ্ট এক মন্দির বর্তমান। রেখ দেউলগুলির মধ্যে একটি পঞ্চায়তন, অর্থাৎ প্রাঙ্গণের চারি কোণে চারিটি রেখ আছে। কোনও কোনও ছোট মন্দিরের সম্মুখভাগে গুপ্তযুগের মন্দিরের মত স্তম্ভযুক্ত ক্ষুদ্র মণ্ডপ রচিত আছে। বেশির ভাগ মন্দিরে স্তম্ভযুক্ত, পার্শ্বে কক্ষাসনবিশিষ্টি মণ্ডপ বর্তমান। কয়েকটি মন্দির সু-উচ্চ বেদিকা বা পিষ্টের উপরে সন্নিবেশিত। দু-একটি ব্যাপারে ওসিয়াঁর রেখ দেউলে বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যথা, কনিকপগভিন্ন অনুরথপগেও ভূমি-অঁলা ব্যবহৃত হইয়াছে। ওসিয়াঁর রেখমন্দিরের সহিত খজুরাহো অপেক্ষা গুজরাতে খেড়ব্রহ্মার নিকটে অবস্থিত প্রায় পরিত্যক্ত রোডার মন্দিরগুলির আকারগত সান্নিধ্য খুব বেশি। মন্দিরগুলি যে সূর্য, বিষ্ণু বা শক্তির উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত হইয়াছিল তাহা গাত্রস্থ মূর্তি হইতে অনুমান করা যায়।

 ওসিয়াঁ এখন বালুকাময় মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত। মন্দির নির্মাণকালে দেশটি হয়ত এত শুষ্ক ছিল না। মন্দিরগুলির নিকটে এক বৃহৎ বাধানো পুষ্করিণী আছে, এখন তাহাতে একবিন্দু জল নাই।

 ওস্‌ওয়াল শ্রেণীর রাজস্থানী বৈশ্যগণের আদি বাসভূমি বলিয়া ওসিয়াঁ আজিও গণ্য হয়। ‘ওস্‌ওয়াল’ দ্র।

নির্মলকুমার বসু

ঔৎসুক্য শব্দটি মনোবিদ্যায় কার্যক্রম (ফাংশন) এবং গঠন (স্ট্রাক্‌চার) অনুসারে দুইটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। মূল্যবান মনে করি এমন কোনও বস্তু বা কর্মের প্রতি আমরা যে মনোযোগ দিই তাহার অনুভূতিকে কার্যক্রমের দিক হইতে ঔৎসুক্য বলা হয়। চারিত্রিক গঠনের সহজাত কিংবা অভিজ্ঞতালব্ধ যে উপাদানের জন্য আমরা কোনও বস্তু বা কর্মকে মূল্যবান মনে করি এবং উহার প্রতি মনোযোগ দিই, ঔৎসুক্য বলিতে তাহাও বুঝানো হয়।

 ঔৎসুক্য অনুসারে মানুষের মূল্যায়নমূলক মনোভাবকে ছয় শ্রেণীতে বিভক্ত করা হইয়াছে: তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক, সৌন্দর্যতাত্ত্বিক, সামাজিক, রাষ্ট্রনৈতিক এবং ধর্মীয়।

 ঔৎসুক্যের গুরুত্ব গভীর। সামর্থ্য ও লক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও আমরা যে কোনও কোনও কর্মে অসফল হই তাহার অন্যতম মনস্তাত্ত্বিক কারণ ঔৎসুক্যের অভাব। শৈশবে ও প্রথম যৌবনে পেশাগত ঔৎসুক্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্থির থাকে। সাধারণতঃ দেখা যায় পঁচিশ বৎসরের পরে পছন্দ ও অপছন্দের বিষয়ের প্রতি মানুষের উৎসুক্য ও ঔদাসীন্যের তীব্রতা ক্রমাগত কমিতে থাকে। ঔৎসুক্য দুই রকম—সাধারণ ও বিশেষ। আধুনিক শিক্ষা-মনোবিদ্যা অনুসারে
শিশুর শিক্ষাক্রম নির্ধারিত হওয়া উচিত শিশুর সহজাত ঔৎসুক্য অনুযায়ী।

 আজকাল শিক্ষা, প্রচার প্রভৃতি নানা ক্ষেত্রে ঔৎসুক্য সম্বন্ধে সমাজ-মনস্তত্ত্ববিদ্‌রা নানা গবেষণা করিতেছেন।

দ্র E. G. Boring, H. S. Langfels, H. P. Weld etc., Psychology, New York, 1949.

ঔদ ইঞ্জিনিয়ারিং হাইড্রলিক্‌স দ্র


ঔদগতিবিদ্যা তরল গতিবিদ্যা দ্র


ঔদস্থিতিবিদ্যা হাইড্রোস্ট্যাটিক্‌স। তরল পদার্থের স্থির অবস্থায় উহার বৈশিষ্ট্য বর্ণনাকে ঔদস্থিতিবিদ্যা বলে। তন্মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখযোগ্য: ১. তরলের চাপ ও তাহার ধর্ম (লিকুইড প্রেশার অ্যাণ্ড ইট্‌স প্রপার্‌টিজ়) ২. পৃষ্ঠবিততি (সার্‌ফেস টেন্‌শন) ৩. তরলে ভাসমান পদার্থের ভারসাম্য ও স্থায়িত্ব (ইকুইলিব্রিয়াম অ্যাণ্ড স্টেবিলিটি অফ ফ্লোটিং বডিজ়)।

 মাধ্যাকর্ষণ (গ্র্যাভিটেশন) জনিত আকর্ষণের দরুন তরল পদার্থের মধ্যবর্তী যে কোনও বিন্দুতে বল অনুভূত হয়। প্রতি একক আয়তনের উপর প্রদত্ত এই বলের পরিমাণকেই তরলের চাপ বলে।


চিত্র ১

 মনে করা যাক যে তরলের মধ্যে একক ক্ষেত্রফল (ইউনিট এরিয়া)-বিশিষ্ট তলের উপর উল্লম্বভাবে দণ্ডায়মান একটি বেলনাকার (সিলিন্‌ড্রিক্যাল) তরলের অংশ লওয়া হইল (চিত্র ১)। এই বেলনাকার বস্তুটির উপরের তলে নিম্নমুখী চাপ P1 ও নীচের তলে তরলের ঊর্ধ্বমুখী চাপ P2,

১২৩