বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:ভারতকোষ - দ্বিতীয় খণ্ড.pdf/১৪৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ঔরঙ্গাবাদ
কইমাছ

Calcutta, 1912-24; Sir Richard Burn, ed., Cambridge History of India, vol. IV, Cambridge, 1937; W. H. Moreland, From Akbar to Aurangzib, London, 1923.

সুকুমার রায়

ঔরঙ্গাবাদ মহারাষ্ট্র রাজ্যের জেলা ও জেলা সদর। জেলার আয়তন ১৭০৬৫ বর্গ কিলোমিটার (৬৩১৪ বর্গ মাইল)। জেলার লোকসংখ্যা ১৫৩২৩৪১ (১৯৬১ খ্রী)। উত্তরে সহ্যাদ্রি এবং দক্ষিণে সাতারা পর্বতমালার মধ্যবর্তী মালভূমির উপর ঔরঙ্গাবাদ অবস্থিত (১৯°৫৩′ উত্তর, ৭৫°২০´ পূর্ব)। ঔরঙ্গাবাদ পৌর ও সৈন্যাবাস এলাকার লোকসংখ্যা যথাক্রমে ৮৭৫৭৯ এবং ১০১২২ জন।

 ঔরঙ্গাবাদ শহরের পূর্বতন নাম ফতেনগর। ১৬১০ খ্রীষ্টাব্দে মালিক অম্বর (১৫৪৯-১৬২৬ খ্রী) ইহা প্রতিষ্ঠা করেন। শাহ্‌জাহান ১৬৩৬ খ্রীষ্টাব্দে ঔরঙ্গজেবকে দাক্ষিণাত্যের সুবাদার করিয়া পাঠান। ঔরঙ্গজেব ফতেনগরে তাঁহার সদর দপ্তর স্থাপন করিয়া নগরীর নূতন নামকরণ করেন ঔরঙ্গাবাদ। তারপর ইহা দাক্ষিণাত্যে মোগল শাসনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর নিজাম-উল্‌-মুল্‌ক আসফজাহ্‌ দাক্ষিণাত্যে প্রায়-স্বাধীন নিজাম রাজ্য স্থাপন করেন। ঔরঙ্গাবাদে তাহার রাজধানী ছিল। পরে (১৭৪৮ খ্রী) হায়দরাবাদে রাজধানী স্থানাস্তরিত হয়। পেশোয়া বালাজি বাজিরাও ১৭৬০ খ্রীষ্টাব্দে নিজাম আলীকে যুদ্ধে পরাস্ত করিয়া ঔরঙ্গাবাদ স্বীয় রাজ্যভুক্ত করেন। তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধের (১৭৬১ খ্রী) পর ঔরঙ্গাবাদ নগরসহ উক্ত জেলার দক্ষিণাংশ পুনরায় নিজাম রাজ্যের অন্তর্গত হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় মারাঠা যুদ্ধে ইংরেজদের সাহায্য করার পুরস্কারস্বরূপ জেলার অপর অংশও নিজাম ফিরিয়া পান। তদবধি ঔরঙ্গাবাদ নিজাম রাজ্যের অন্তর্গত থাকিয়া যায়। পরিশেষে ১৯৫৬ খ্রীষ্টাব্দে রাজ্যসমূহ পুনর্বিন্যস্ত হইলে ঔরঙ্গাবাদ বোম্বাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৬০ খ্রীষ্টাব্দে মহারাষ্ট্র রাজ্য গঠিত হইয়াছে। বর্তমানে ঔরঙ্গাবাদ উক্ত রাজ্যের অন্তঃপাতী।

 ঔরঙ্গাবাদ জেলায় কৃষক ও খেতমজুরের সংখ্যা ৬৬৯৮৭৪। গৃহশিল্পে ও অন্যান্য শিল্পে নিযুক্ত কর্মীর সংখ্যা যথাক্রমে ৩১৯৩৮ ও ১২২৭৫। ঔরঙ্গাবাদ শহর মহারাষ্ট্র রাজ্যের বাজরা, জোয়ার, ডাল, ঘি, অপরিশ্রুত শর্করা, গুড়, তামাক, আফিম, তুলা, রেশম, সুতিবস্ত্র এবং রুপা, সোনা ও মিশ্র ধাতু-নির্মিত দ্রব্যের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। এতদঞ্চলে আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থার সুত্রপাত
ঘটে ১৮৮৯ খ্রীষ্টাব্দে। ঐ সময় ‘ঔরঙ্গাবাদ মিল্‌স লিমিটেড’ নামক বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। কুটিরশিল্পের কেন্দ্র হিসাবে ঔরঙ্গাবাদের খ্যাতি সুপ্রাচীন। সুতি ও রেশমি কাপড়ের উপর নকশা তোলা অঙ্গাবরণ (‘হিমরু’ ও ‘মশরু’) ঔরঙ্গাবাদের বিশিষ্ট হস্তশিল্প। কিংখাব এখানকার আর একটি বিশিষ্ট সামগ্রী। ঔরঙ্গাবাদের জরি ও রুপার গহনাদিও প্রসিদ্ধ। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগ হইতে বর্তমান শতাব্দীর মধ্য ভাগ পর্যন্ত এই সকল কুটিরশিল্পের দুরবস্থা গিয়াছে। সম্প্রতি শিল্পগুলি আবার বিকাশের সুযোগ-সুবিধা পাইতেছে। কারিগরদের সমবায় সমিতি গঠিত হইয়াছে। অধিকাংশ কারিগর মুসলমান। ব্যবসায়ীরা সাধারণতঃ বোহ্‌রা, বাজি, মেমন ও ভাটিয়া-সম্প্রদায়ভুক্ত।

 ঔরঙ্গাবাদ জেলায় পুরাকীর্তি ও শিল্পকীর্তির দিক দিয়া প্রসিদ্ধ বহু দ্রষ্টব্য বস্তু আছে। অজণ্টা ও এলোরা তন্মধ্যে অগ্রগণ্য। ইতিহাসপ্রসিদ্ধ দেবগিরি বা দৌলতাবাদ ঔরঙ্গাবাদ শহর হইতে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরে অবস্থিত। খুলদাবাদে ঔরঙ্গজেবের অনাড়ম্বর সমাধি দর্শনীয়। ঔরঙ্গাবাদ শহরের প্রায় ৩ কিলোমিটার (২ মাইল) দূরে ১২টি বৌদ্ধগুহা বিদ্যমান। ভাস্কর্য ও স্থাপত্যের দিক দিয়া গুহাগুলি গুরুত্বপূর্ণ। মালিক অম্বর কর্তৃক নির্মিত জুম্মা মসজিদ ঔরঙ্গাবাদ শহরের অন্যতম আকর্ষণ। ঔরঙ্গজেব তাঁহার পত্নী রাবিয়া দুরানির স্মৃতিরক্ষার্থে যে সমাধিমন্দির নির্মাণ করেন উহা শহরের প্রায় ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। স্মৃতিসৌধটি ‘বিবিকা মক্‌বরা’ নামে খ্যাত। ঔরঙ্গজেবের গুরু বাবা শাহ্ মজফ্‌ফর-এর সমাধিমন্দিরের অঙ্গনে তাঁহার কালের একটি জলস্রোতচালিত জাঁতাকল আছে। সেকালের এই উৎপাদন যন্ত্রটি পান্‌চাক্কি নামে পরিচিত। ‘অজণ্টা’, ‘এলোরা’ ও ‘দৌলতাবাদ’ দ্র।

দ্র Imperial Gazetteers of India, New Edition, London, 1908; Amita Roy, ‘Sculptures In Aurangabad’, Marg, June, 1963.

প্রণবরঞ্জন রায়

ঔষধ ভেষজ দ্র

কইমাছ আকান্থোপ্তেরিগী বর্গের (Order-Acantho pterygii) অন্তর্ভুক্ত লাবিরিম্বিসী গোত্রের (Family-Labyrinthici) মাছ। ভারতবর্ষে প্রধানতঃ দুইটি প্রজাতির কইমাছ পাওয়া যায়—আনাবাস স্কান্‌দেন্‌স (Anabas scandens) ও আনাবাস তেস্‌তুদিনিয়ম (Anabas testudineus)।

১২৮